আসলামের কলাম
স্পেনের তারুণ্যের জয়
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ফুটবলের নতুন বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। এই ম্যাচে জিতেছে তারুণ্য, গতি ও আধুনিক ফুটবল। আর হেরেছে বয়সের ভার, ফিটনেসের ঘাটতি এবং কৌশলগত ভুল।
স্পেনের কোচ শুরু থেকেই তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখেছেন। লামিনে ইয়ামাল, পাউ কুবারসি, ফেরান তোরেসদের মতো তরুণদের অভিজ্ঞ রদ্রির সঙ্গে দারুণভাবে মিশিয়ে এমন একটি দল গড়েছেন, যারা টুর্নামেন্টজুড়েই গতিময় ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে। বিশেষ করে রদ্রি ও ইয়ামালের বোঝাপড়া স্পেনের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রদ্রি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছেন আর ইয়ামাল গতি ও সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষকে বারবার বিপদে ফেলেছেন। আর্জেন্টিনা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। বয়স ও ফিটনেসের সীমাবদ্ধতা তাদের খেলায় স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে স্পেনের গতিময় ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার রক্ষণ বারবার অসহায় হয়ে পড়েছে। গোলরক্ষক দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
লিওনেল মেসিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু পুরো ম্যাচে তিনি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। অবশ্য এর জন্য শুধু মেসিকে দায়ী করলে ভুল হবে। আক্রমণে তাকে কার্যকরভাবে সহযোগিতা করার মতো কাউকে দেখা যায়নি। তিনি কয়েকটি ভালো পাস বাড়িয়েছিলেন; কিন্তু সতীর্থরা সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে মেসির নিস্তেজ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়ে পুরো দলের খেলায়। আর্জেন্টিনার কোচের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন থাকবেই। সময় থাকতে তরুণদের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা উচিত ছিল। এত বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে শুধু অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দলের জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে। ফুটবল এখন অনেক বেশি গতি ও ফিটনেসের খেলা। সেই বাস্তবতায় পিছিয়ে পড়ার খেসারতই দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড। তখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত আগ্রাসী ফুটবল খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় মূল্য দিতে হয়েছে তাদের। স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয় তাদের ফুটবল কাঠামোরও বড় স্বীকৃতি। স্প্যানিশ লিগ এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনা যে কতটা কার্যকর, এই শিরোপা তার আরেকটি প্রমাণ। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপও জিতে স্পেন দেখিয়ে দিল, তাদের নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের বিশ্বফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করতে প্রস্তুত।
সবশেষে একটি বিষয় অবশ্যই বলা উচিত, ফাইনালের ফল দিয়ে লিওনেল মেসির পুরো টুর্নামেন্টকে বিচার করা ঠিক হবে না। বিশ্বকাপে তার অবদান এবং নেতৃত্ব অনস্বীকার্য। ফাইনালে দল হিসাবে স্পেন ছিল অনেক বেশি পরিপূর্ণ, সংগঠিত ও কার্যকর। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঠেছে স্পেনের হাতেই। ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য যুগান্তরের সব পাঠককে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই টুর্নামেন্টজুড়ে এই আয়োজন সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। আবারও দেখা হবে আগামী বিশ্বকাপের মঞ্চে। সবাই ভালো থাকুন।
