কৃত্রিম সৌন্দর্যে বাড়ছে মানসিক চাপ
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে নিখুঁত ত্বক, বলিরেখাহীন মুখ, সুঠাম শরীর আর অবিশ্বাস্য পেশিবহুল তরুণ-তরুণীর ছবি। প্রথম দেখায় বাস্তব মনে হলেও এর বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে। প্রযুক্তির এই সক্ষমতা একদিকে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে মানুষের সামনে তৈরি করছে সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠনের এক অবাস্তব মানদণ্ড। যা তৈরি করছে মানসিক চাপ। বাস্তব জীবনে এমন নিখুঁত চেহারা বা শরীর পাওয়া কঠিন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার একই ধরনের ছবি দেখতে দেখতে তরুণদের কাছে সেটিই স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে আত্মবিশ্বাস ও নিজের শরীর নিয়ে সন্তুষ্টির ওপর। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গবেষকদের এক গবেষণায় এআই দিয়ে তৈরি ৩০০টি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুরুষদের ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশই তরুণ, ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ চর্বিহীন এবং ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ পেশিবহুল। নারীদের ছবিতে শতভাগই তরুণ; ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত পাতলা এবং একই অনুপাতে রিভেলিং পোশাক পরা। অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে চিত্র আরও একমুখী। ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছবি অতি-চর্বিহীন এবং ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ অত্যন্ত পেশিবহুল। ‘একজন অ্যাথলেট’-এর ছবি চাইলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এআই পুরুষের ছবি তৈরি করেছে। শারীরিক অক্ষমতা, অতিরিক্ত ওজন, বলিরেখা কিংবা টাকপড়া মানুষের উপস্থিতি প্রায় নেই। এআই নিজে থেকে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা তৈরি করে না। ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি ছবি ও ডেটা থেকে শেখার সময় সমাজে আগে থেকেই প্রচলিত সৌন্দর্য-ধারণা এবং পক্ষপাতও শিখে নেয়। ফলে মেদহীন, তরুণ ও নিখুঁত শরীরের প্রতি পুরোনো সামাজিক পক্ষপাতই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সেন্টার ফর অ্যাপিয়ারেন্স রিসার্চের সাইকোলজির অধ্যাপক ফিলিপা ডিডরিচসের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সঙ্গে নিজের শরীরের তুলনা করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। কিন্তু সেই তুলনা যখন বাস্তব মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে নিখুঁত করা ছবির সঙ্গে হয়, তখন আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
