শিশু-কিশোরদের ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহাকাশ কেমন, সেখানে কীভাবে রকেট যায়, আর ভবিষ্যতে মানুষ কি অন্য কোনো গ্রহে বসতি গড়তে পারবে-এমন অসংখ্য প্রশ্ন, কল্পনা আর স্বপ্ন নিয়ে একদিনের জন্য মহাকাশের জগতে ডুব দিয়েছিল খুদে শিক্ষার্থীরা। কেউ গল্পে তুলে ধরেছে নিজের মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা, কেউ ব্যস্ত ছিল রোবট তৈরি কিংবা রকেটের খুঁটিনাটি জানতে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর সৃজনশীলতার এমনই এক মিলনমেলা বসেছিল ঢাকার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি)।
৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও বিইউবিটির যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্কুলের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুরা অংশ নেয়। মহাকাশবিজ্ঞানকে আনন্দের সঙ্গে জানার পাশাপাশি নিজেদের কল্পনা ও চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায় তারা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তিন মিনিটের উপস্থাপনায় তুলে ধরে প্রতিযোগীরা। প্রথম ধাপে নির্বাচিতরা অংশ নেয় পাঁচ মিনিটের চূড়ান্ত পর্বে। ৬-৮, ৯-১১ ও ১২-১৪ বছর-তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রতিযোগিতা শেষে ১৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
তবে আয়োজনটি শুধু গল্প বলার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। স্পেস রোবোটিক্স, রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ, রকেটারি ওয়ার্কশপ, স্পেস আর্ট এবং বিভিন্ন ইন্টার্যাকটিভ বিজ্ঞান কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শিশুরা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মহাকাশের অভিজ্ঞতা তাদের কৌতূহলে যোগ করে নতুন মাত্রা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শওকত আলী। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও মহাকাশ গবেষক। প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টিতে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান। বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইউআইটিএস-এর সহযোগী অধ্যাপক আল ইমতিয়াজ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, আমরা চাই শিশুদের কাছে মহাকাশ শুধু বইয়ের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকুক। তারা মহাকাশ নিয়ে প্রশ্ন করুক, নিজের মতো করে ভাবুক, গল্প বলুক, রোবট তৈরি করুক, রকেট নিয়ে জানুক। অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিচারকদের সম্মাননা ক্রেস্ট এবং বিজয়ীদের মেডেল দেওয়া হয়। টেকনোলজি ও এআই পার্টনার হিসাবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস, পেমেন্ট পার্টনার সূর্যপে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা-এমন উদ্যোগ শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে, কল্পনাকে রূপ দেবে অনুসন্ধিসায় এবং ভবিষ্যতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
