পড়াশোনায় এআই ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পালটে যাচ্ছে শিক্ষার ধরন, পদ্ধতি ও মূল্যায়নের মানদণ্ড। এ পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এক সময় যেটি ছিল প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, এখন তা বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। শুধু পেশাদার পরিবেশ নয়, স্কুল-কলেজের গণ্ডিতেও প্রবেশ করেছে এআই। বাড়ির কাজ, কোর্সওয়ার্ক এমনকি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও শিক্ষার্থীরা এখন এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অনলাইন গবেষণা সংস্থা ইউগভ, যা পরিচালনা করেছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট। জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ২২১ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৮৯ শতাংশই মনে করেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এআই ব্যবহার ‘অগ্রহণযোগ্য’। তাদের দৃষ্টিতে এটি শিক্ষার মৌলিক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বনির্ভরতার বদলে নির্ভরতাই বাড়াচ্ছে।
এআই ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, সবাই একমত যে, এটি আর থামান যাবে না। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরীক্ষা বোর্ড ওসিআর-এর প্রধান নির্বাহী জিল ডাফি বলেন, ‘এআইয়ের যুগে এসেও কোর্সওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।’ বরং তিনি আহ্বান জানিয়েছেন একটি সুসংগঠিত জাতীয় এআই কৌশল প্রণয়নের, যাতে দেশের সব স্কুল সমানভাবে এ প্রযুক্তির সুফল পেতে পারে।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ ও মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা। জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বিরাম চিহ্ন ও ব্যাকরণে সহায়তার জন্য এআই ব্যবহারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও ৪৪ শতাংশই তাতে দ্বিমত পোষণ করেন। আর মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, শিক্ষার্থীদের এআই অপব্যবহার থেকে বিরত রাখতে বাড়ির কাজের পরিমাণ কমানো উচিত।
এআই নিয়ে বিতর্কের আরও একটি দিক হলো মূল্যায়নের ন্যায্যতা ও মান নিয়ে উদ্বেগ। মার্চে প্রকাশিত একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে দেখা যায়, জিসিএসই পর্যায়ে এআই নির্ভর কাজ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা মূল্যায়নে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বেকি ফ্রান্সিসের নেতৃত্বাধীন একটি পর্যালোচনা চূড়ান্ত সুপারিশের দিকে এগোচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে ভবিষ্যতের শিক্ষা নীতিমালা।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিষিদ্ধ নয় বরং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মধ্যে রেখে উপযোগী করে তোলাই সময়ের দাবি। জিল ডাফি এটিকে ‘একটি চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘স্কুলগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে এবং এটাকে থামানো সম্ভব নয়। তাই দরকার একটি সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা, যাতে প্রযুক্তির সুবিচার হয় এবং কোনো প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে না পড়ে।’
জুন মাসে পরিচালিত আরেকটি ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের পাঁচজনের মধ্যে তিনজনেরও বেশি শিক্ষক কোর্সওয়ার্ক মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন। তবে ২৭ শতাংশ শিক্ষক এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, শিক্ষা খাতে এআই এখন এক দ্বিমুখী বাস্তবতা-একদিকে সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মূল্যায়নের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন প্রয়োজন দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারণ, যাতে ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা হয় ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর হলেও মানবিক।
