Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬

নতুন বই আসছে বাড়ছে ক্রেতাও

১২ দিনে কবিতার বই এসেছে ৩৫৪টি, মুক্তিযুদ্ধের ১টি

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন বই আসছে বাড়ছে ক্রেতাও

দিন যত গড়াচ্ছে, অমর একুশে বইমেলায় ততই বাড়ছে নতুন বইয়ের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতিও। বিকাল গড়াতেই মেলাপ্রাঙ্গণে ভিড় করছেন নানা বয়সি পাঠক। কেউ নতুন প্রকাশিত বইয়ের খোঁজ করছেন, আবার কেউ তালিকা হাতে প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে ছুটে যাচ্ছেন এক স্টল থেকে আরেক স্টলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বইমেলায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার লোক-সমাগম কম। তবুও এখন যারা মেলায় আসছেন তাদের বেশির ভাগই ক্রেতা।

মেলার ১২তম দিন, সোমবার সন্ধ্যায় পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় আড্ডার তুলনায় স্টলের সামনে ভিড় বেশি। বইয়ের পাতা উলটানো আর কেনা-বেচার দৃশ্যই ছিল সর্বত্র। তবে কিছু স্টলের সামনে পাঠকের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। বিশেষ করে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং লিটলম্যাগ চত্বর একেবারে ফাঁকা বললেই চলে।

বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবারের মতো এবারও কবিতার বই বেশি আসছে। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে গল্প, উপন্যাস ও গবেষণাধর্মী বই।

আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি জানান, তিনি সব পাঠকের জন্যই বই প্রকাশ করেছেন, করছেন। গত কয়েক বছর ধরে গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দুদিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বই এসেছে। এর মধ্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা ‘তাঁদের স্মৃতি ও সৃষ্টি’ এবং হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘জার্নাল ২০০০-২০১৫’ মেলায় আসার আগেই পাঠক খোঁজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মেলায় ঢাকার বাইরে থেকে আসা বেশ কজন বইপ্রেমী মানুষের দেখা মিলেছে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা চপল বলেন, আমার পছন্দের তালিকায় আছে রাজনীতিবিষয়ক বই। দেশের রাজনীতির উত্থান-পতন ও ভূরাজনীতি নিয়ে জানতে চাই। তিনি বাতিঘর থেকে প্রকাশিত বদরুদ্দীন উমরের ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : বাংলাদেশের কৃষক’ বইটি সংগ্রহ করেছেন। বাঙ্গালা গবেষণা প্রকাশ থেকে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের ‘রচনাবলী-১’, অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মৃত্যুঞ্জয় রায়ের ‘সুন্দরবনের অণুজীব বৈচিত্র্য’, শব্দ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আহাম্মদ আলীর লেখা ‘সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ : প্রামাণ্য জীবনী’ ও রামেন্দু মজুমদারের লেখা কথা প্রকাশের বই ‘ভ্রান্তিবিলাস ও হালাকুর প্রত্যাবর্তন’ বইগুলো কিনেছেন।

এছাড়া প্রতীক প্রকাশনা প্রকাশিত পলাশ পুরকায়স্থের থ্রিলারধর্মী উপন্যাস ‘মানিটো আওয়াসিস’, পুঁথিনিলয় প্রকাশ করেছে ‘রাণু ও রবীন্দ্রনাথ’ সংকলন, চন্দ্রবিন্দু থেকে প্রকাশিত মাজহার সরকারের লেখা ‘রূপ ঝরে রাধা জাগে’সহ বেশকিছু বই সংগ্রহ করে মেলায় ঘুরতে দেখা যায় রংপুর থেকে আসা স্বরূপ জাহাঙ্গীরকে। তার ভাষ্য, এবার ২৫টি বই পছন্দ করেছেন। লিস্ট ধরে ধরে তিনি বই সংগ্রহ করছেন। তার ভাষ্য, বই পছন্দের এত বড় প্ল্যাটফর্ম আর কোথাও নেই। তাই তিনি মেলা চলাকালীন এক সপ্তাহ ঢাকায় থাকেন।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা জানান, গত শুক্রবার থেকে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। মেলার যেহেতু আর কয়েকটা দিন আছে। এই কয়েক দিনে বিক্রি কিছুটা হবে।

নতুন বই : সোমবার তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ১৬৩টি। গত ১২ দিনে নতুন বই এসেছে ৯৮৯টি। এর মধ্যে গল্প ১৩৯টি, উপন্যাস ১৫৬টি, প্রবন্ধ ৩০টি, কবিতা ৩৫৪টি, গবেষণা ৩১টি, ছড়া ১৯টি, শিশুতোষ ৫১টি, জীবনী ৩৪টি, মুক্তিযুদ্ধ ১টি, নাটক ৪টি, বিজ্ঞান বিষয়ক ১৫টি, ভ্রমণ সাহিত্য ২৫টি, ইতিহাস ১৪টি, রাজনীতি ১২টি, চিকিৎসা বিষয়ক ৬টি, ভাষা বিষয়ক ২টি, ধর্মীয় ১৩টি, অনুবাদ ১০টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন ১টি ও অন্যান্য ৭১টি।

পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সার : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে ‘শহীদুল্লা কায়সার’ শীর্ষক আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপনক্ষণে শিবলী আজাদ বলেন, পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সার। বামপন্থী রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও লেখকবৃত্তি শহীদুল্লা কায়সারের খ্যাতির মূল কারণ হলেও স্বাধীনতার প্রাক্কালে তার শাহাদাতবরণ তাকে দিয়েছে অনন্য এক মর্যাদা। রোজনামচা, ভ্রমণকাহিনি ও উপন্যাস মিলিয়ে নয়টি পূর্ণাঙ্গ ও একটি অসমাপ্ত গ্রন্থের লেখক শহীদুল্লা কায়সার মূলত একজন প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক হিসেবেই বেশি পরিচিত। সারেং বৌ (১৯৬২)-এর মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও উপন্যাসে তার দক্ষতার ছাপ প্রথম গ্রন্থেই প্রমাণিত। সংশপ্তক (১৯৬৫) উপন্যাসের প্রকাশ তার ঔপন্যাসিক সক্ষমতার ধারণা দৃঢ় করেছে, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিকের অধিষ্ঠান দিয়েছে। শহীদুল্লা কায়সারের জীবদ্দশায় পূর্ববাংলায় ঘটেছে ব্যাপক সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ভাঙচুর, পাশাপাশি ঘটেছে সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর। আর সেসব সামাজিক রূপান্তরের চিহ্ন শহীদুল্লা কায়সারের সাহিত্যে উঠে এসেছে।

আলোচকের বক্তব্যে প্রশান্ত মৃধা বলেন, শহীদুল্লা কায়সারের সৃষ্টিকর্মকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার অবকাশ রয়েছে। সমকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তার উপন্যাসের পটভূমি নির্মাণ করেছে। এজন্য প্রায়ই তার রাজনৈতিকসত্তা তার সাহিত্যিকসত্তাকে অতিক্রম করে গেছে। তিনি তার উপন্যাসে অত্যন্ত শিল্পসফলভাবে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, শহীদুল্লা কায়সার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান চরিত্র। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তার উপন্যাসগুলোকে যদি জাতীয় চেতনার দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই অধিকতর সুফল পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম এবং জাভেদ হুসেন। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ড. নাঈমা খানম এবং সেলিনা আক্তার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রদীপ মিত্র, সৈয়দ রনো, মাহিনুর মুমু, মো. এনামুল হক ও ইকবাল আলী। সংগীত পরিবেশন করেন আশরাফ মাহমুদ, সনৎকুমার বিশ্বাস, জাবীর ইমাম খান, এ টি এম আশরাফ হোসেন, জামাল দেওয়ান, আশরাফুজ্জামান, মফিজুর রহমান, মো. ওবায়দুর রহমান, সুমন চন্দ্র দাস ও আহমেদ শাকিল হাসমী। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন স্বপন কুমার দাস (তবলা), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁশি), লক্ষ্মী প্রসাদ দাস (অক্টোপ্যাড) ও সুমন কুমার শীল (দোতারা)।

আজকের বইমেলা : আজ মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করবেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বিকাল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .