Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

কারিগরি শিক্ষার ‘৩২৯ স্বপ্ন’ থমকে

দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

Advertisement

Icon

আরমান হেকিম

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

Advertisement

দক্ষতার আলো ছড়ানোর কথা ছিল যে প্রকল্পের, ছয় বছরেও সেই প্রকল্পেরই আলো জ্বলেনি। ৩২৯ উপজেলায় কারিগরি স্কুল-কলেজ গড়ে তোলার ২০ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার উদ্যোগটি এখনো পড়ে আছে অন্ধকারেই-ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১১ শতাংশ, বাকি ৮৯ শতাংশ কাজ। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রকল্পটি শেষ করতে আরও তিন বছর সময় চাওয়া হয়েছে।

কাজের এই ধীরগতির মধ্যেই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোর এ প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। তবে এতদিনে যে কাজ হওয়ার কথা ছিল, তার বড় অংশই বাকি থাকায় প্রস্তাবিত অতিরিক্ত তিন বছরে পুরো কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বেশ কিছু শর্ত ও সুপারিশ দিয়েছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশে প্রকল্পটির দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়ন সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করে এসব সুপারিশ দেওয়া হয়। সংস্থাটি বলেছে, যেসব ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন না, তাদের চুক্তি বাতিল করে দ্রুত পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হবে। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ শেষ এবং নির্মাণকাজ চলা উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আইএমইডির পরিদর্শনে ঠিকাদারি কাজের বেহাল চিত্রও পাওয়া গেছে। নমুনা হিসাবে পর্যালোচনা করা ১০টি ঠিকাদারি প্যাকেজের একটিও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। কয়েকটি প্যাকেজের চুক্তির মেয়াদ ২০২১ ও ২০২২ সালেই শেষ হয়েছে। অন্যগুলোর মেয়াদ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হলেও সেগুলো অসম্পূর্ণ বা আংশিক বাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। কোনো কোনো নির্মাণস্থলে ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীর ঘাটতিও পাওয়া গেছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে ব্যয় না বাড়িয়ে এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর করা হয়। সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসে কোনো আর্থিক অগ্রগতিও হয়নি।

প্রকল্পটির ধীরগতি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইএমইডির এক সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, তখন পাঁচ বছর সাত মাসে ভৌত অগ্রগতি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ব্যয় হয়েছিল ১০৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ছাড়পত্র, জনবল সংকট ও প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনসহ নানা সমস্যার কথা ওই সময়ের পর্যালোচনায় উঠে আসে।

প্রকল্প শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে আটজন কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারাবাহিক উদ্যোগের অভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়নি বলেও ওই সভায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিপিপিতে জমির মূল্য মৌজা রেটের চেয়ে কম থাকায় অনেক স্থানে জমি পাওয়া যাচ্ছিল না। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ধীরগতিতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়। এর প্রভাব পড়ে নির্মাণকাজে।

প্রকল্পটির আওতায় ৩২৯ উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, কর্মশালা, ছাত্রাবাস, শিক্ষক নিবাসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরিই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এখন সংশোধিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা, বছরভিত্তিক অর্থের চাহিদা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে আইএমইডি। তুলনামূলকভাবে অগ্রসর তিনটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে সেগুলো চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ঠিকাদারি প্যাকেজের অগ্রগতি, পরিশোধিত বিল, অবশিষ্ট কাজ ও কাজ শেষ করার সময়সীমার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যয় না বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে আইএমইডি। তবে অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যখন ৮৯ শতাংশ ভৌত কাজ বাকি, তখন ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিক কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষার ‘৩২৯ স্বপ্ন’ থমকে দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

রংপুর টাউন হল সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

শিশু একাডেমিতে আজ আসছেন প্রধানমন্ত্রী বাইরে আলোকোজ্জ্বল সাজ, ভেতরে অন্ধকার

বাইরে আলোকোজ্জ্বল সাজ, ভেতরে অন্ধকার

লটারির মাধ্যমে পদায়ন শুরু আজ সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম