চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলা, বৃদ্ধের মৃত্যু
Advertisement
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নইতে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধ মো. আবদুল হাই (৭৫) মারা গেছেন। বৃদ্ধের পরিবার ও সুধারাম থানা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্যবাজারে হামলায় আবদুল হাইসহ তিনজন আহত হন।
বৃদ্ধার ছোট ছেলে মো. সুমন তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বছরখানেক আগে তার বাবা ইসলামগঞ্জ মধ্যবাজার এলাকায় স্থানীয় রেজাউল হকের কাছ থেকে ১ দশমিক ৩৮ শতক জমি কিনে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি তারা ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বাধা দেন এবং জমিটি তার মামার বলে দাবি করেন।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লিটন চৌধুরীকে জমির সপক্ষে কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে তাকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে সুমনরা জমিতে কাজ করতে গেলে লিটন চৌধুরী সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আবদুল হাই লিটনকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে তারা জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে লিটনের নেতৃত্বে তার ভাই ইসমাইল ও সাদ্দামসহ ৮-১০ জনের একটি দল আবদুল হাইসহ তার ছেলেদের ওপর হামলা চালায়। তারা আবদুল হাইকে মারধর করে খালে ফেলে দেয়। হামলায় তার দুই ছেলেও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে গুরুতর অবস্থায় আবদুল হাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার ভোররাতে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মারা যান আবদুল হাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে লিটন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নোয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভী জানান, আমাদের দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদা দাবির বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি রয়েছে। লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যদি চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম আবদুল হাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
