Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

দিনমান পরিশ্রমেও ঘোচে না দারিদ্র্য

Advertisement

Icon

মনিকা চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিক বোতল আর ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে বস্তায় ভরছেন সোনিয়া। সকাল থেকে চলে তার এই কাজ। দিনভর ঘুরে যা সংগ্রহ করেন, তা বিক্রি করে আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কখনো-বা একটু বেশি। এ টাকায় চাল, ডাল, সবজি কিনে সংসার চালাতে হয়। দিতে হয় বিদ্যুৎ বিল, মেটাতে হয় পরিবারের অন্যান্য খরচ। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তার। সারাদিন পরিশ্রম করেও অভাব দূর হচ্ছে না।

বরিশাল নগরীর পলাশপুর বস্তির বাসিন্দা সোনিয়ার মতো একই বাস্তবতার মুখোমুখি হোসনেয়ারাও। স্বামী পঙ্গু, পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো রাত পর্যন্ত চলে তার ব্যস্ততা। পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে হয়। কিন্তু চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সেই আয় দিয়ে আগের মতো সংসার চালানো যাচ্ছে না। উপার্জন আর খরচের হিসাব মেলাতে তাকে প্রতিদিনই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সোনিয়া বলেন, বোতল আর ভাঙারি কুড়িয়ে বিক্রি করে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পাই। এ টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। সবকিছু কিনতে গেলে আর টাকায় কুলায় না। সারাদিন কাজ করেও সব প্রয়োজন মেটাতে পারি না। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বিপদে পড়তে হয়। তখন ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। হোসনেয়ারার জীবনেও স্বস্তি নেই। এখন পিঠা তৈরির উপকরণ কিনতে খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেশি। পিঠার দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, আবার দাম না বাড়ালে খরচ বাদ দিয়ে হাতে তেমন টাকা থাকে না। ফলে পরিশ্রম বাড়লেও সংসারে সচ্ছলতা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুজনের পেশা আলাদা, কিন্তু সংকটের জায়গা একই। কোনোদিন খাবারের খরচ জোগাড় করতেই টান পড়ে, আবার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে দেখা দেয় নতুন দুশ্চিন্তা। চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করতে হয়। পরে সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে দৈনন্দিন খরচ আরও কমাতে হয়। এভাবে তাদের জীবন অভাবের চক্রে আটকে পড়েছে। আজ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। এ দিবসে দারিদ্র্য দূরীকরণে মানুষের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে সোনিয়া ও হোসনেয়ারার মতো নিম্নআয়ের মানুষের জীবন দেখায়, শুধু কাজ করলেই দারিদ্র্য থেকে মুক্তি মেলে না। সেই আয়ে খাবার, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাও থাকতে হয়।

একজন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে আয় করেও যদি পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার কিনতে না পারেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারেন বা মাস শেষে ধারদেনা করতে বাধ্য হন, তাহলে তার জীবনে দারিদ্র্যের চাপ থেকেই যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে সীমিত ও অনিয়মিত আয়ের মানুষের পক্ষে এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পলাশপুর বস্তির সোনিয়া ও হোসনেয়ারার কাছে দারিদ্র্য বিমোচনের অর্থ খুব সাধারণ। সারাদিন পরিশ্রম করে যেন সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পারেন, পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে পারেন, আর দৈনন্দিন খরচ চালাতে যেন অন্যের কাছে ধার চাইতে না হয়। তাদের চাওয়া বিলাসিতা নয়, একটু স্বস্তিতে বেঁচে থাকা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দিন শেষে দুজনকেই আবার পরেরদিনের উপার্জনের চিন্তা করতে হয়। পরদিনও কাজে নামতে হবে, জোগাড় করতে হবে সংসারের খরচ। এভাবেই দিন যায়, মাস পেরোয়, অথচ অভাব আর দূর হয় না। পরিশ্রমে তাদের বিরতি নেই, তবুও সংসারে স্বস্তি নেই। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম আর সীমিত আয়ের চাপে তাদের জীবন আটকে আছে প্রতিদিন টিকে থাকার লড়াইয়ে। আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসে তাদের এই বাস্তবতাই মনে করিয়ে দেয়-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি মানে শুধু কাজ পাওয়া নয়, সেই কাজের আয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাও।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মেঘনা পাড়ের ৬ পয়েন্টে নিলামের বাজার নিষেধাজ্ঞার ইলিশ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

নিষেধাজ্ঞার ইলিশ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

যশোরের ঐতিহ্য গুড়ের হাঁড়িতে সংকটের আঁচ

যশোরের ঐতিহ্য গুড়ের হাঁড়িতে সংকটের আঁচ

বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ হতদরিদ্রদের অর্ধেকই পান না সামাজিক সুরক্ষা

হতদরিদ্রদের অর্ধেকই পান না সামাজিক সুরক্ষা

দিনমান পরিশ্রমেও ঘোচে না দারিদ্র্য

দিনমান পরিশ্রমেও ঘোচে না দারিদ্র্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম