ফরিদপুর ও সোনাগাজী
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে দুই নারীকে ধর্ষণ
জনতার ধাওয়া খেয়ে পালাল কৃষকদল নেতা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুর ও ফেনীর সোনাগাজীতে দুই অসহায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরে এক বিধবাকে উপজেলা পরিষদের কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে সুজন শেখ নামে এক যুবক। অন্যদিকে সোনাগাজীতে এক টমটম চালকের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে স্থানীয় কৃষকদল নেতা মোহাম্মদ সেন্টু। এ সময় জনতার ধাওয়া খেয়ে সে পালিয়ে যায়। উভয় ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
ফরিদপুর : পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভিকটিম মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলার পর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আসামি সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে।
বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী যুগান্তরকে জানান, ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন সুজন শেখ। কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে ২ এপ্রিল সকালে সুজন তাকে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ বলেন, ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওই নারী কার্ড করার জন্য মাঝে মধ্যেই আমার বাড়িতে আসত। ওইদিনও আমার বাড়িতে আসে। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোনাগাজী (ফেনী) : অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম মোহাম্মদ সেন্টু। তিনি উপজেলার ৫নং চরদরবেশ ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ডের সেনেরখিল গ্রামের বেন্ট বাড়ির রফিক উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, ৫ এপ্রিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক টমটম চালকের স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর, আইডি কার্ড ও ছবি নেন সেন্টু। এরপর থেকে তার সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলেন তিনি। বুধবার রাতে তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে সেন্টু। এ সময় তার স্বামী ঘরে এসে সেন্টুকে ঝাপটে ধরেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে রশি দিয়ে বাঁধার সময় সেন্টু পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ধাওয়া করেও তাকে ধরতে পারেনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, পরদিন ফোনে আমার পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সেন্টু। সে বলেছে, জানে বাঁচতে চাইলে, মামলা করবি না।
ফেনী জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন খোকন বলেন, সেন্টুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
সোনাগাজী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সেন্টু পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
