মির্জাগঞ্জে নির্যাতন
‘নিজস্ব আদালতে’ ২ নারীকে বেধড়ক প্রহার বিএনপি নেতার
Advertisement
মির্জাগঞ্জ দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ‘নিজস্ব আদালত’ বসিয়ে শুক্রবার সংখ্যালঘু দুই নারীসহ চারজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. মজিবুর রহমান উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
আহতরা হলেন সমীর হাওলাদার (৫২), তার স্ত্রী সবিতা রানী (৪২), তাদের মেয়ে ঝিলিক রানী (২২) এবং ঝিলিকের ছেলে পিয়াস (৪)। এ ঘটনায় সমীরের স্ত্রী সবিতা রানী বাদী হয়ে সোমবার মির্জাগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবুয়া গ্রামের সমীর চন্দ্র হাওলাদার ও তার ভাই শংকর হাওলাদারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় শংকর হাওলাদারের পক্ষ হয়ে বিএনপি নেতা মজিবুর ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে আসেন।
ওই সময় কোনো প্রকার আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই ‘বিচারের’ নামে মজিবুর রহমানসহ তার সহযোগীরা সমীর চন্দ্র হাওলাদার, স্ত্রী সবিতা রানী ও মেয়ে ঝিলিক রানীকে এলোপাতাড়ি গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় ঝিলিকের চার বছরের ছেলে পিয়াস মায়ের কাছে ছুটে গেলে তাকেও চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মারধরের শিকার সমীরের মেয়ে ঝিলিক জানান, তাদের বসতঘরের সামনে একটি চাম্বল গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সেটির ডাল কাটতে গেলে তার চাচা শংকর হাওলাদারের পক্ষ নিয়ে উপস্থিত হয়ে বিএনপি নেতা মজিবুর ও তার সহযোগীরা তাদের পিটিয়ে আহত করেন।
এ ঘটনায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র ‘বিএনপি নেতার নিজস্ব আদালত’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তবে হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
শংকর হালদার ও তার পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে তাকে ডাকা হয়েছিল। তিনি গিয়ে দেখেন দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এতে উভয়ের পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। তিনি বা তার সহযোগীরা কাউকে মারধর করেননি। মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
