ভোটগণনা আজ
কে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বে
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি (ফলতা ছাড়া) আসনের ভোটগণনা হবে আজ। ৭৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এ ফলাফল ঘিরে রাজ্যের সর্বত্রই চলছে টান টান উত্তেজনা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়ে ভোট গণনা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চব্বিশ পরগনার একটি আসনের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার জয়ের ব্যাপারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস আত্মবিশ্বাসী হলেও দুপুরের মধ্যেই জানা যাবে কে আসছেন নেতৃত্বে। তবে বুথফেরত একাধিক জরিপে দেখা যায়, ২৩০টির বেশি আসনে তৃণমূল জিতবে এবং চতুর্থবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন মমতা ব্যাণার্জি। অন্যদিকে, বিজেপি ৫০ থেকে ৬০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস মাত্র ৩ থেকে ৫টি এবং বামফ্রন্ট মাত্র ১টি আসন পেতে পারে।
সকাল ৮টায় কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগণনা শুরু হবে। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০৮টি। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। এখানে কলকাতা মহানগরীর ১১টি আসনের মধ্যে ৭টির ফল গণনা করা হবে। ভোটগণনায় সাহায্য করার জন্য ৪৩১ জন গণনা পর্যবেক্ষক বা কাউন্টিং অবজার্ভার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে গণনা করা হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। দুপুর ১২টার মধ্যে জয়-পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাবে। তবে গণনা পুরোপুরি শেষ হতে কোনো কোনো কেন্দ্রে রাতও হয়ে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল প্ল্যাটফর্মে প্রতিমুহূর্তের ভোটের ফলের আপডেট জানা যাবে। বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল এবং ডিজিটাল মাধ্যমেও ভোটের ফলের লাইভ আপডেট সকাল থেকেই দেওয়া হবে। বিধানসভাওয়ারি ফলও জানা যাবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট eci.gov.in-এ প্রতিমুহূর্তের ভোটের ফলের আপডেট জানা যাবে।
বর্তমানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ‘স্ট্রং রুমে’ রাখা হয়েছে ব্যালট। ব্যবস্থা করা হয়েছে কড়া নজরদারির। পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্র আলাদাভাবে ‘স্ট্রং রুমের’ বাইরে পাহারা বসিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপিও।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ভোটগণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। কেবল কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয়পত্র থাকলেই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। কাউন্টিং অবজারভার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। কেবল নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভোটগণনার আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন এ কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীদের স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনোরকম গাফিলতি বা নির্দেশ অমান্য করা হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। প্রয়োজনে চাকরিও খোয়াতে হতে পারে। সম্প্রতি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে কিছু কর্মীর গাফিলতির অভিযোগ এসেছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এর আগে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট নেওয়া হয় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল কলকাতাসহ ৭ জেলার ১৪২টি আসনের ভোট নেওয়া হয়। এবারের প্রথম দফা নির্বাচনে ১৫২ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৪৭৮ জন। আর দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৪৪৮ জন।
