আহা এই জীবন
শিশুর কান্নায় কাঁপেনি পাষাণের হাত
রাঙ্গাবালীতে দুই ভাইকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চুরির অভিযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর কলাগাছিয়া চরে গাছের সঙ্গে শিশু শামিম ও জিহাদকে বেঁধে রাখা হয় -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা দুই শিশু। ছোটটি অঝোরে কাঁদছে। বড় ভাইয়ের মাথার একাংশের চুল কাটা। এমনই একটি ঘটনার একাধিক ছবি মঙ্গলবার যুগান্তরের হাতে আসে, যা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর কলাগাছিয়া চরের। অভিযোগ উঠেছে, দোকানে চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে মারধর করে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দুপুরে উপজেলার কলাগাছিয়া চরে অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ছবিতে দেখা যায়, বেঁধে রাখা ওই দুই শিশু একে-অপরের ভাই। ছোট ভাই জিহাদ (৫) কান্নায় ভেঙে পড়েছে। বড় ভাই শামিমের (৭) মাথার একাংশের চুল কাটা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তোফায়েল দালালের মালিকানাধীন দোকানের কর্মচারী আল আমিন প্রথমে দোকানে চুরির অভিযোগে দিয়ে শিশু দুটিকে মারধর করে। পরে তাদের বেঁধে রাখেন এবং বড় ভাই শামিমের মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। পরে পরিবারের হস্তক্ষেপে শিশু দুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতিত শিশুদের মা লাইলি বেগম বলেন, ‘আমি গিয়ে দেখি ওদের গাছে বাঁধা। আমাকে দেখে ওরা কান্নাকাটি করে। আমি বিষয়টি জানতে চাইলে আল-আমিন বলে-চুরি করছে, তাই শাস্তি দিছি।’ নির্যাতিত দুই শিশুর বাবা স্বপন দালাল বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলে উলটো হুমকি-ধমকিও দেয় আল আমিন।’
এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় সোমবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত দুই শিশুর মা। অভিযুক্ত আল-আমিন রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওয়া গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দোকান মালিক তোফায়েলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আল-আমিন কোনো মারধর করেনি এবং মাথায় কামানোর বিষয়টিও সঠিক না। এরআগেও এই ছেলেরা এখানে দোকানপাট চুরি করেছে। যা আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছি।’ রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
