কালশী বস্তিতে আগুন
দুই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও মিরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ছে স্থাপনা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মিরপুর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বস্তির বাউনিয়াবাদ পুকুরপাড় এলাকার অন্তত দুই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। একে একে ১৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বস্তিবাসীদের অভিযোগ, আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে পানির সংকট রয়েছে। ফলে আগুন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। এরপর একে একে ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পানির স্বল্পতা ছিল। সড়কে যানজটের কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া বস্তির সরু রাস্তার কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার ফাসর্ভিসের কর্মীদের। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। হতাহতের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
রাত ১০টার দিকে বস্তি এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। বস্তির ঘর পুরে ভস্ম হওয়ায় মাথা গোঁজার একমাত্র ঘরটি হারিয়ে আহাজারি করছেন বস্তির বাসিন্দারা। তখনো আগুনের ধোঁয়া উঠছে। নিয়ন্ত্রণে এলেও কোথাও কোথাও আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা আলী বলেন, কালশী বস্তির বাউনিয়াবাদ বেড়িবাঁধ এলাকায় আগুন লাগে। বস্তির ওই অংশে বেশির ভাগই ভাঙারির ছোট ছোট দোকান। বস্তির বেড়িবাঁধের এ অংশকে স্থানীয়ভাবে কলাবাগান বস্তি বলে। এখানে ২০০ থেকে আড়াইশ ঘর আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বাউনিয়াবাদ বি ব্লকের বাসিন্দা জালাল জানান, তার জুতার কারখানা ছিল এই কলাবাগান বস্তিতে। কারখানাটি আগুনে পুড়ে গেছে। তার মতো অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে আগুনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়াবহ এ আগুন পরিকল্পিতভাবে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক যুবককে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করে আটকের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। জানা গেছে, সন্দেহভাজন হিসাবে আটক ওই যুবকের নাম নাজমুল হাসান (২৬)। তাকে পল্লবী থানায় নিয়ে যায় এলাকাবাসী।
