হান্নান মাসউদের তথ্য ফাঁস
হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর
Advertisement
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ-সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসকে কেন্দ্র করে হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হান্নান মাসউদ এ অর্থ দাবি করেছিলেন বলে গাফফার দাবি করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তিনি হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। গাফফারের বাবার নাম মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাফফার জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিম সেফহোমে ছিলেন। তখন আমিই হান্নান মাসউদকে সেফ করেছি। তখন ভিডিও করা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে আমিই তাকে প্রতিষ্ঠিত করছি। এ কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। এ কারণে তার অনেক কিছুই আমি জানি।
গাফফার আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দিতে হান্নান মাসউদ পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন এতে আমি বাধা দিই।’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা বুধবার গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনি (রাশেদ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এরপর রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তার অনুসারীরা ফেসবুকে আমাকে নানারকম হুমকি ও গালাগাল দেয়। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানাই। তিনি (হান্নান) বলেন, ‘ওই সব লোক তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’
ছাত্রদল নেতা গাফফার আরও বলেন, সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে হান্নানের যোগসাজশে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘরের জানালা ভাঙচুর এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। আমার বৃদ্ধ মা ও বাবা বাড়িতে থাকেন। তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং ভয়ের মধ্যে আছেন।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী নেতাকর্মীরা হুমকি-ধমকি দেয়। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ভাইরাল হওয়ার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। এমপি হান্নান মাসউদ বিষয়টি অবহিত করলে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতেও হামলা হয়। আমি সেগুলো ট্যাকেল (ঠেকাতে) দিয়ে উঠতে পারি না। আরেকজনের বাড়িতে আমি হামলা করব কীভাবে? এটা পুরোপুরি একটা সাজানো নাটক। আমাকে হেয় করতেই এটা করা হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
