ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে যাচ্ছেন মাস্ক
ইতিহাসে প্রথম
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ লাখ কোটি টাকা) সম্পদের মালিক হতে যাচ্ছেন ইলন মাস্ক। মানব ইতিহাসে বাণিজ্যিক পরিসরে এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। সিএনএন।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসাবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে মাস্কের হাতে ২৭৩ বিলিয়ন বা ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার ও স্টক আছে। আগামী সপ্তাহে তার রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) শুরু হওয়ার কথা। সেটি হলে তার সম্পদে আরও ৮৪১ বিলিয়ন বা ৮৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার যোগ হতে পারে।
স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক। আইপিওর পর প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শুধু টেসলা ও স্পেসএক্স-এ দুই কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার। জাতীয় সংসদে রোববার শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন। ১১ জুন আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। সে হিসাবে ইলনমাস্কের সম্পদমূল্যে এমন ১৪টি বাজেট দেওয়া সম্ভব।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। তবে মাস্কের এই সম্পদ মূলত কাগুজে সম্পদ; এটা ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়। তার সম্পদের মূল্য নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে টেসলা ও স্পেসএক্সকে কতটা মূল্যায়ন করেন, তার ওপর।
মানুষের জীবদ্দশায় যুক্তিসংগত উপায়ে ট্রিলিয়ন বা লাখোকোটি ডলার ব্যয় করা প্রায় অসম্ভব। কেউ যদি প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে খরচ করেন, তাহলেও লাখোকোটি ডলার ব্যয় করতে তার এক শতাব্দীর বেশি সময় লেগে যাবে।
বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি (২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জন করতে চায়)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জিডিপি মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে কম। এ তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) ও মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)। শুধু বিদেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মাস্কের সম্পদের চেয়ে ছোট অর্থনীতির উদাহরণ রয়েছে। আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৭৮৯ বিলিয়ন বা ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
ইলন মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস-এই চার ধনকুবেরের মোট সম্পদ একত্র করলেও তা প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার হয়। অর্থাৎ তাদের চারজনের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের চেয়ে কম।
