সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উলটো পথে হাঁটছে সরকার
নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে ৩১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণসহ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। জীবাশ্ব জ্বালানির ওপর আমদানি শুল্ক কম থাকলেও সোলার সিস্টেম এবং এর ব্যাটারির ওপর শুল্ক ২৮ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। একইভাবে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কম বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এতে করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে কম। রোববার সকালে ধানমন্ডি কার্যালয়ে জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে আর্থিক বৈষম্য শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সিপিডির পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন পেপার উপস্থাপন করে বলেন, পুরো পৃথিবী এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিয়ে পরিবেশ এবং অর্থের সাশ্রয় করছে। সেখানে সরকার হাঁটছে উলটো পথে। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহি দিতে ৩১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম শুল্ক (এটি), লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। এবার সবুজ জ্বালানি নির্ভর বাজেট প্রণয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহেযোগী হেলেন মাসিয়াত প্রিয়তী এবং গবেষণা সহযোগী আতিকুজ্জমান সাজিদ উপস্থিত ছিলেন।
ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সোলার সিস্টেম আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত। সোলার ওয়ার হিটারের জন্য ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি মজুতের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারির জন্য ৯৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হয়। গত বছরে ৯৮৫ কোটি টাকার লিথিয়াম ব্যাটারি আমদানির বিপরীতে এনবিআর শুল্ক আদায় করেছে ৬১০ কোটি টাকা। এমনিভাবে ইলেকট্রিক যান (ইভি) বিশেষ করে ত্রি হুইলার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, টু হুইলার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ১৩১ কোটি টাকার ইভি আমদানি করে শুল্ক আদায় হয়েছে ১২০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনে যন্ত্রপাতির জন্য শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৩ দশমিক ৬ থেকে ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ। এনবিআরের হিসাব মতে, ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকার গ্রিড লাইনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।
সিপিডি জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বেশি শুল্ক থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর আমদানি শুল্ক তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যেমন এলএনজি আমদানির ওপর শুল্ক মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। কয়লা আমদানির ওপর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডিজেল আমদানির ওপরও শুল্ক অনেক কম। এক হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার ৭০১ কোটি টাকার। এ থেকে এনবিআর শুল্ক পেয়েছে ২৬ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা।
সিপিডির পরিচালক আরও বলেন, ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রকে প্রধান্য দিচ্ছে। যেমন ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রতি ইউনিট ২০ টাকা। জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই খরচ পড়ে ৭ দশমিক ৫ টাকা। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বলানির বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা নেই। এগুলোর প্রতি ইউনিট খরচ পড়ে মাত্র ৯ টাকা। কিন্তু পিডিবি বিক্রি করে মাত্র ৭ টাকায়। বাকি অর্থ ভর্তুকি আকারে দেওয়া হয়। তিনি উদাহরণ হিসাবে বলেন, রিজেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রতি ইউনিট ৪৬ দশমিক ০৫ টাকা, সামিট নারায়ণগঞ্জ ইউনিট ওয়ান ১৯ দশমিক ১৩ টাকা, ইউনাইটেড আনোয়ারা ৩৯ দশমিক ০৪ টাকা, বিআর পাওয়ারজেন মীরেরসরাই ২৩ দশমিক ৮৫ টাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি টেকনাফ সোলার টেক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৭৫ টাকা, ইন্ট্রাকো ১৯ দশমিক ৩১ টাকা, এইচডিএফসি সিন পাওয়ারের বিদ্যুৎ ২০ দশমিক ৫৬ টাকা, তিস্তা পাওয়ার ২০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প ১৮ দশমিক ১৫ টাকায় প্রতি ইউনিট কিনছে পিডিবি। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র আওয়ামী লীগ আমলে কোনো রকম টেন্ডার ছাড়াই দেওয়ার কারণে খরচ অনেক বেড়েছে। এখন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ৯ টাকার মধ্যে পাওয়া সম্ভব।
সিপিডির পরিচালক নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে ৩১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম শুল্ক (এটি), লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি এবারের বাজেটকে সবুজ জ্বালানি নির্ভর বাজেট প্রণয়ণে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন। এ সময় সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী হেলেন মাসিয়াত প্রিয়তী এবং গবেষণা সহযোগী আতিকুজ্জমান সাজিদ উপস্থিত ছিলেন।
