Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

শামুকখোলের ঠিকানা কানাইপুকুর

Icon

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শামুকখোলের ঠিকানা কানাইপুকুর

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুর গ্রামে গাছের ডালে ডালে শামুকখোলের আনাগোনা। প্রতি মৌসুমে এখানে আশ্রয় নেয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শামুকখোল। স্থানীয়দের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই পাখির কলোনি এখন পরিণত হয়েছে অনন্য অভয়াশ্রমে -যুগান্তর

Advertisement

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম কানাইপুকুর। হাজারো শামুকখোল পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসাবে গ্রামটি পরিচিত হয়ে উঠেছে। গ্রামটি যেন পাখির গ্রামে পরিণত হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পুরো এলাকা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে। নভেম্বরে পাখিরা অন্যত্র চলে যায়। তবে এপ্রিল এলে আবার ফিরে আসে।

স্থানীয়রা জানান, আলহাজ আব্দুস ছোবহান মন্ডলের বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ের ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বিশাল মেহগনি গাছে বিপন্ন প্রজাতির পাখি শামুকখোল আশ্রয় নেয়। তাদের সঙ্গে আসে বক, কানিবক, পানকৌড়ি ও শঙ্খচিলসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। প্রতি মৌসুমে এখানে দূরদূরান্ত থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার শামুকখোল পাখি উড়ে আসে। তাদের কলকাকলিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। সবার সহযোগিতা এবং ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে অনন্য পাখির অভয়াশ্রম।

মন্ডল পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০০৭-০৮ সালের দিকে এক বর্ষায় কয়েকটি পথভ্রষ্ট শামুকখোল পুকুরপাড়ের উঁচু গাছে আশ্রয় নেয়। তাদের তাড়িয়ে না দিয়ে নিরাপদে থাকতে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর একই সময়ে পাখি এখানে আসতে শুরু করে। নিরাপদ পরিবেশে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা। একপর্যায়ে কানাইপুকুর হয়ে ওঠে শামুকখোলের বড় প্রজনন কলোনি। প্রতি বছর এপ্রিলের শুরুতে এখানে তারা ফিরে আসে। উঁচু গাছে তারা বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। মে থেকে জুনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ছানারা উড়তে শেখার সময় পুরো এলাকা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়। এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নভেম্বরে পাখিরা অন্যত্র চলে যায়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির ডাক, ডানা ঝাপটানো এবং গাছে গাছে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য গ্রামের বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। আব্দুস ছোবহান মন্ডলের ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল বলেন, পাখিগুলো অনেকটা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। কেউ যেন তাদের ক্ষতি বা বিরক্ত না করে সেদিকে আমরা কড়া নজর রাখি। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিনুর ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ পাখির কলোনি প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকায় পর্যটনেরও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, কানাইপুকুরের পাখি কলোনি প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। পাখিদের সুরক্ষা, নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যাংকে পরিবারভিত্তিক সঞ্চয় কোটিপতি বেড়েছে ৫৬ জন আমানত কমল ১২শ’ কোটি

কোটিপতি বেড়েছে ৫৬ জন আমানত কমল ১২শ’ কোটি

শামুকখোলের ঠিকানা কানাইপুকুর

শামুকখোলের ঠিকানা কানাইপুকুর

রাণীনগরে জরাজীর্ণ ৫৩ স্কুল ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, আতঙ্ক

ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, আতঙ্ক

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে কমিটি

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে কমিটি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম