ব্যাংকে পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়
কোটিপতি বেড়েছে ৫৬ জন আমানত কমল ১২শ’ কোটি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাংক খাতে পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। তবে তাদের জমানো আমানতের স্থিতি কমেছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও লাখপতির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়ও বেড়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারীদের ওপর ভর করে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। গত মার্চের তুলনায় জুনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ জন। একই সময়ের ব্যবধানে তাদের জমানো আমানতের স্থিতি কমেছে ১২০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারী বেড়েছে ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ জন। তাদের সঞ্চয় বেড়েছে ৩১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। চলতি বছরে গত মার্চের তুলনায় জুনে তিন মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ। আমানতের এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই ঘটেছে ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারীদের ওপর ভিত্তি করে। কারণ, ব্যাংক খাতে গত মার্চের তুলনায় জুনে ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই তাদের আমানতও বেড়েছে। অন্যদিকে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তাদের সঞ্চয় কমেছে। অর্থাৎ কোটিপতিরা ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন। এর বিপরীতে ক্ষুদ্র ও লাখপতিদের ব্যাংকে আমানত রাখার প্রবণতা বেড়েছে।
ব্যাংক খাতে জুনে আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। মার্চে পরিবারভিত্তিক আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ ৫৯ হাজার। তাদের মোট জমার স্থিতি ছিল ১২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। জুনে আমানতকারী বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার এবং আমানত বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ক্ষুদ্র ও লাখপতি আমানতকারী মার্চে ছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ৩১০ জন। একই সময়ে তাদের সঞ্চয়ের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। জুনে আমানতকারী বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটি ৪২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯ জনে। তাদের সঞ্চয়ের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়। মার্চের তুলনায় জুনে আমানতকারী বেড়েছে ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ জন এবং সঞ্চয় বেড়েছে ৩১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৪০ হাজার ৬৪৫ জন। তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। জুনে আমানতকারী বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৭০১ জনে এবং তাদের আমানতের স্থিতি কমে দাঁড়ায় ৯০ হাজার ২০০ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে আমানতকারী বেড়েছে ৫৬ জন এবং আমানত কমেছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।
এক বছরের হিসাবে ব্যাংক খাতে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন আমানতকারীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনই কমেছে আমানতের পরিমাণ। গত বছরের জুনে এ খাতের আমানতকারী ছিল ২৬ জন। তাদের সঞ্চয় ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত জুনে আমানতকারী কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে এবং আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটিপতি আমানতকারীরা এখন অন্যত্র বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারের ট্রেজারি বিল, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। অনেকে টাকা তুলে অন্যত্র সরিয়েছেন। যে কারণে তাদের আমানত কমেছে। ছোট ও লাখপতি আমানতকারীরা এখনো সঞ্চয়ের জন্য ব্যাংককেই প্রধান অবলম্বন হিসাবে মনে করছেন। যে কারণে তারা সঞ্চয় ব্যাংকেই রাখছেন।
ব্যাংক খাতে মোট আমানতের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র ও লাখপতি সঞ্চয়কারীদের। কোটিপতিদের আমানত তুলনামূলকভাবে বেশ কম। এর বাইরে অর্থাৎ পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়ের বাইরে করপোরেট খাতের আমানত রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা।
