রাণীনগরে জরাজীর্ণ ৫৩ স্কুল
ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, আতঙ্ক
সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় গাছতলায় চলছে পাঠদান -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টির ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে কোনোটির বিম-ওয়ালে ফাটল ধরেছে আবার কোনো কোনোটির খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। কোথাও পুরো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরেও আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে ওই ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আর ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে অনেক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানো হচ্ছে। অন্যদিকে এসব জরাজীর্ণ ভবনে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাদের কোমলমতি শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভরসা পাচ্ছেন না।
উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এরমধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
সরেজমিন উপজেলার পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে ভবন নির্মাণ করা হয়। অথচ, ভবন নির্মাণের ৩০ বছরেই করুণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহতাব হোসেন জানান, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পুরো বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বিদ্যালয়ে কোনো ভবন না পাওয়ায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়েছে। আর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় করানো হচ্ছে।
উপজেলার ৩৮নং কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান করানো হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি ভবনের দেওয়ালে ফাটল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ওই ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়েছে।
উপজেলার বিজয়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন, মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যে কোনো সময় পুরো ছাদই ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে কারণে বেশ কয়েকদিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দেইনি। কিন্তু শিক্ষকদের অনুরোধে বিদ্যালয়ে পাঠালেও সন্তান বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত চরম আতঙ্কে দিন পার করতে হচ্ছে। তাই শিশুদের নিরাপদ রাখতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ইতোমধ্যে ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো দেখে নতুন করে তালিকা তৈরি এবং সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ধরন অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া যেগুলো তালিকার বাইরে রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। আর পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিনের বেড়া দিয়ে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
