খুলনায় বিএনপি নেতাকে হত্যা
মোটরসাইকেলে এসে কাছ থেকে তলপেটে গুলি
Advertisement
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানের মধ্যে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম গাজীকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রফিকের কাছে গিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করে। গুলি তলপেটে বিদ্ধ হলে রফিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে তার লাশ রাখা হয়েছে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিক বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এলাকায় তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামে পরিচিত ছিলেন।
নিহত রফিকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার বড় ছেলে রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ছেলেকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটা ফাঁকা জায়গায় রফিক বসেছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে গুলি করে। গুলি করেই হামলাকারী দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলি তলপেটে লাগলে রফিক মারাত্মক জখম হন। খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। রফিক পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তিনি জানান। জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার জানান, রফিক দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক খুনের ঘটনাগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অনেক নিহত ব্যক্তির সঙ্গেও অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের খবর পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ-বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার ও রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল হোতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনেকে মামলা ও সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। এতে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, ২ জুন থেকে খুলনা মহানগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযান চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে একজন নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী-চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত খুলনা মহানগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বলছে-অধিকাংশ অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। মাদক ব্যবসা ও গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ, আত্মগোপনে থাকা অপরাধীদের সক্রিয় হওয়া এবং রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
