কাজ করতে দেরি
কৃষি শ্রমিককে পিটিয়ে মারলেন বিএনপি নেতা
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার নির্মম নির্যাতনে জামিল হোসেন (৫০) নামের এক নিরীহ কৃষক মারা গেছেন। শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রাম থেকে ওই কৃষকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জামিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিণা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন এবং মৌসুমে ভাটি অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করতেন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। ইউসুফ ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্রমিক জামিল তার এক জামাতা ও চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলেন।
নিহত জামিলের জামাতা আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, শনিবার বিকালে ইউসুফ আমার শ্বশুরকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। কাজ করতে কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে তাকে বেদম মারধর করেন এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যান এবং আহত অবস্থায় সেখানে তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করাতে বাধ্য করেন জামিলকে। তিনি (জামাতা) জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যায় তারা ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন এবং বাসায় এসেই জামিল হোসেন বেশ অস্বস্তি বোধ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। জামাতা আরও জানান, তার শ্বশুর জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। নির্মম মারধরের কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাননি।
তবে ইউসুফ আলীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রোববার হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
