ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে ৭০ লাখের চেকে সই
মূল অভিযুক্তসহ গ্রেফতার ২
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল নগরীতে ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে ৭০ লাখের চেক-স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান লিটু -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধরের একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ৭০ লাখ টাকার চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২৭ জুন নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, এদিন দুপুরে নগরীর সদর রোড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, ২৭ জুন সন্ধ্যায় ওই হাউজিং প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর এবং একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ৭০ লাখ টাকার দুটি চেক ও ছয় পাতার স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ছাড়া গ্রেফতার অন্যজন হলেন আবুল কালাম আজাদ। ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের পাওনা টাকা আদায় নিয়ে এ ঘটনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে নগরীর সদর রোডে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি আব্দুল আজিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করে দুটি চেক, একটি সাদা চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। এরপরও লিটু এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। আব্দুল আজিজ ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোয় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোজন করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী জানান, এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে গ্রেফতারের আগে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেছেন, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার অভিযোগ, আব্দুল আজিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের অর্থ আত্মাসাৎ করেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেছেন, নগরীতে অভিযান চালিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশকিছু ভিডিওতে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা বলায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন জানান, যুবদলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই মোস্তাফিজুর রহমানের। এমনকি দলের কোনো কমিটিতে থাকা তো দূরের কথা, কোনোদিন কোনো মিটিং-মিছিলেও আসেননি তিনি।
