Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

রক্তাক্ত জুলাই

ছাত্রলীগের হামলায় রণক্ষেত্র শিক্ষাঙ্গন

Advertisement

Icon

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগের হামলায় রণক্ষেত্র শিক্ষাঙ্গন

Advertisement

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এই হামলায় সারা দেশে চার শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আহত হন ২৯৭ জন শিক্ষার্থী। যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন সেখানে গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। আগের দিন ১৪ জুলাই বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বইছিল। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা আত্মস্বীকৃত রাজাকার, গত রাতে নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। এর জবাব ছাত্রলীগই দেবে।’

সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা নিজেদের ‘রাজাকার’ বলে স্লোগান দিয়েছে, তাদের শেষ দেখে ছাড়বেন বলে হুমকি দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। দফায় দফায় ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন। ককটেল নিক্ষেপ করেছেন। আমাদের ওপর এ হামলা পরিকল্পিত। ক্যাম্পাসের সহিংসতার ঘটনায় করণীয় ঠিক করতে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। বৈঠক শেষে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রাধ্যক্ষরা রাতভর হলে অবস্থান করবেন।

১৫ জুলাই রাত ১০টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি ও মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। স্যার এএফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এমন ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনে যুক্ত কিনা, তা যাচাই করতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। আন্দোলনে সম্পৃক্ততা পেলেই মারধর করা হয়। এদিন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা ও মারধর করেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা। শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনে যেতে না পারেন, সেজন্য কলেজের গেটে তালা দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যান।

এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুর থেকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। যশোরে এমএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে ছাত্রলীগ। রাজধানীর বাইরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মেঘনা পাড়ের ৬ পয়েন্টে নিলামের বাজার নিষেধাজ্ঞার ইলিশ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

নিষেধাজ্ঞার ইলিশ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

যশোরের ঐতিহ্য গুড়ের হাঁড়িতে সংকটের আঁচ

যশোরের ঐতিহ্য গুড়ের হাঁড়িতে সংকটের আঁচ

বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস আজ হতদরিদ্রদের অর্ধেকই পান না সামাজিক সুরক্ষা

হতদরিদ্রদের অর্ধেকই পান না সামাজিক সুরক্ষা

দিনমান পরিশ্রমেও ঘোচে না দারিদ্র্য

দিনমান পরিশ্রমেও ঘোচে না দারিদ্র্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম