Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

সংশোধন হবে সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদ

নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বাতিল হবে সদস্যপদ

যুক্ত হচ্ছে নতুন বিধান * বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক আজ

Advertisement

শেখ মামুনুর রশীদ

শেখ মামুনুর রশীদ

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বাতিল হবে সদস্যপদ

Advertisement

নৈতিক স্খলনের গুরুতর অপরাধের কারণে বাতিল হবে সদস্যপদ। এমন বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নৈতিক স্খলনজনিত কারণে একজন সংসদ-সদস্যের পদ সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না, যদি না তিনি আদালতের মাধ্যমে ন্যূনতম দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন। অর্থাৎ শুধুমাত্র নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠলেই কারও সদস্যপদ চলে যাবে না। এ অবস্থায় বিশেষ কমিটি সংবিধানে নৈতিক স্খলন বলতে কী বোঝায়, এ বিষয়ে একটি বিশদ ব্যাখ্যা সংবিধানে অন্তর্র্ভুক্ত করার কথা ভাবছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

তবে এই ভাবনা এখনো কাগজে কলমে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। কমিটির বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে এটি চাড়ান্ত করা হবে। আজ রোববার বেলা আড়াইটায় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটি ফের বৈঠকে বসবে। গত ৪ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের কর্মকৌশল, কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) এবং এই কাজের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এর প্রায় দেড় মাসের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে। সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনের কাজ শেষ করতে চায় বিশেষ কমিটি, এমনটাই জানিয়েছেন একাধিক সদস্য। 

কমিটির অন্যতম সদস্য সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জুলাই সনদের মূল ভাবধারা ও চেতনার আলোকেই আমরা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কেবল সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এমন লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি আমরা।’ 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ (দলীয় সিদ্ধান্ত ও পদ বাতিল) অনুযায়ী একজন সংসদ-সদস্যের পদ কেবল দুটি কারণে শূন্য হতে পারে। এক. যদি তিনি (সংসদ-সদস্য) নিজ দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। দুই. তিনি (সংসদ-সদস্য) যদি সংসদে নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোটদান করেন। এর বাইরে সংবিধানের ৬৬(২) এর (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ-সদস্যের নৈতিক স্খলনজনিত কারণে পদ বাতিল হতে হলে দেশের কোনো আদালত কর্তৃক তাকে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। ?আদালত থেকে তাকে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। 

এক্ষেত্রে দলীয় কোনো তদন্ত বা দলীয় সিদ্ধান্ত আদালত বা আইনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। আদালত থেকে কোনো সাজা না হওয়া পর্যন্ত নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ-সদস্যের পদ বাতিল হবে না। এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল তাকে বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু আইনগতভাবে একজন সংসদ-সদস্যের পদ বাতিলের জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

কমিটির একজন সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দল কর্তৃক তাদের কোনো সংসদ-সদস্যকে ‘বহিষ্কার’ করা আর সংসদ-সদস্যের নিজে ‘পদত্যাগ’ করা এক বিষয় নয়। সংবিধান অনুযায়ী দল কাউকে বহিষ্কার করলে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হন না। এমনকি নৈতিক স্খলনের যে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে সংবিধানে, তাতেও কোনো সদস্য আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত না হলে তার সদস্য পদ যাবে না। তাই দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও একজন সংসদ-সদস্যের পদ বহাল রয়েছে বলেই বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচন কমিশনকে তাদের সংসদ-সদস্যকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানায়, তবে নির্বাচন কমিশন কেবল খাতায় নোট রাখতে পারে যে, সংশ্লিষ্ট সংসদ-সদস্য এখন আর ওই দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। ?নির্বাচন কমিশনেরও আইনগতভাবে সংসদ-সদস্য পদ বাতিল করার কোনো এখতিয়ার এখানে নেই। কারণ সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে কেবল সংবিধানের আলোকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, এমন অবস্থায় সংবিধানে নৈতিক স্খলনের অপরাধ এবং এ কারণে সদস্য পদ বাতিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রস্তাবনা নিয়ে তারা প্রথমিক আলাপ আলোচনা করেছেন। সাংবিধানিক দুর্বলতা বা ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ নৈতিক স্খলনের গুরুতর অপরাধ করেও পার না পান, সেজন্যই তারা এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রয়োজনে তারা সংবিধানের ৬৬ এবং ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের যুক্তিও তুলে ধরবেন। 

গত ১৩ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১২ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সদস্য হিসাবে রয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান পার্থ, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল ও মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বাংলাদেশ জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না

বাংলাদেশ জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না

উত্তরাঞ্চলের চরবাসী নদী কেড়ে নেয় ভিটে, ফের স্বপ্ন বোনে চরে

নদী কেড়ে নেয় ভিটে, ফের স্বপ্ন বোনে চরে

কপ-৩১ সম্মেলন শুরু ৯ নভেম্বর সংকট মোকাবিলায় সহজলভ্য অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

সংকট মোকাবিলায় সহজলভ্য অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

জাতীয় সংবিধান দিবস আজ গণরায় বাস্তবায়ন না করা মূল স্পিরিটের পরিপন্থি

গণরায় বাস্তবায়ন না করা মূল স্পিরিটের পরিপন্থি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম