জাতীয় সংবিধান দিবস আজ
গণরায় বাস্তবায়ন না করা মূল স্পিরিটের পরিপন্থি
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের বিদ্যমান সংবিধানের মূলকথা রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। আর জনগণের ইচ্ছা প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। কিন্তু ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থাৎ, জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন হয়নি। এ ধরনের কাজ সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থি। ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের বিশিষ্টজনরা যুগান্তরের সঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন।
জানতে চাইলে বেসরকারি সংস্থা সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেখানে আরও বলা আছে, সংবিধান জনগণের ইচ্ছার পরম অভিব্যক্তিরূপে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন।’ তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি গণভোট হলো। সেই গণভোটে জনগণ তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করল। কিন্তু জনগণের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন হলো না। ফলে আমার প্রশ্ন-সংবিধান জনগণের অভিপ্রায় হলো কীভাবে? তার মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থি।
জাতীয় সংবিধান দিবস আজ। প্রতিবছর ৪ নভেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ১৯৭২ সালের এই দিনে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। কার্যকর হয় ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী, নাগরিকদের অধিকার কী এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি কী হবে-এসব বিষয় সংবিধানে নির্ধারিত হয়েছে। রাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে সংবিধান। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ২০২২ সালে সংবিধান দিবস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সংবিধান হলো রাষ্ট্রের দলিল। কিন্তু যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সংবিধান তাদের মতো করে সংশোধন করে এবং ব্যাখ্যা করে। এর মাধ্যমে সংবিধানের মূল স্পিরিটকে উপেক্ষা করা হয়। এই প্রবণতা সব সময়ই ছিল। এটি ক্ষমতাসীন সব দলই করে আসছে। তিনি বলেন, সংবিধান নিজস্ব গতিতে কখনই চলতে পারেনি। অর্থাৎ, মূল স্পিরিট বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা যায়, সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে। জনগণের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়। এসব মতামত থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে। ১৯৭২ সালে মূল সংবিধান ইংরেজি ভাষায় রচিত হয় এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয়।
সংবিধানে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে। এতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা উল্লেখ করা আছে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক এবং সব ক্ষমতার উৎস। সংবিধান অনুসারে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও একক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। রাষ্ট্র তিনটি কাঠামোয় পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে সংবিধান সংশোধন করা যায়। বাংলাদেশের সংবিধান এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই সর্বশেষ সংশোধনী পাশ হয়।
