শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না ইরান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় এবং যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের শর্তগুলো পূরণ করে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। রোববার পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি তারা সৌদির সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত; দেশটির রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেস টিভি অনলাইন জানায়, ১৯৮০ দশকে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে হওয়া আট বছরের যুদ্ধের স্মরণে পালিত প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্য দেন গালিবাফ। সেখানে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমাদের শর্তগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শত্রু ভালোভাবেই জানে, প্রতারণা ও একতরফা জবরদস্তির পথ এখন বন্ধ।’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না এসব শর্ত পূরণ হচ্ছে, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগের আলোচনার কাঠামোয় ফিরে আসা বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
রিয়াদে হুথির ব্যাপক হামলা
ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হুথি জানিয়েছে, শনিবার তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের ভিডিও ও ছবিতে বিমানবন্দরের মহাসড়ক, প্রধান টার্মিনাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার কাছে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। ভিডিওর এক পর্যায়ে জ্বালানি ট্যাংকের মতো দেখতে কাঠামোর পেছন থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়।
জুলাই থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদিতে বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। তবে বর্তমান উত্তেজনা শুরুর পর রিয়াদে তাদের চালানো এটিই ছিল প্রথম কোনো হামলার দাবি। হুথি জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর ইয়ানবুতে আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। এটি সৌদির তেল রপ্তানির একটি প্রধান কেন্দ্র। তারা জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় চালানো হামলার জবাবেই এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
সৌদির সহায়তায় আসার বার্তা তুরস্কের
তুরস্ক বলেছে, সৌদির প্রয়োজনে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন। তুরস্কের এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধে সৌদিকে টেনে আনার বিষয়টি বেশ অদ্ভুত। তিনি জানান, যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই রিয়াদের। তবে আমরা দেখছি, সম্প্রতি তাদের সার্বভৌমত্ব বেশ কয়েকটি হামলার শিকার হয়েছে। সৌদির সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা তাদের সঙ্গে গভীর সংহতিতে আছি। তাদের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হলে তা পূর্ণ করতে কোনো বাধা নেই।’
ইরানে ফের হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র-এমন তথ্য পেয়েছে ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এমন তথ্য পেয়েছেন-যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কিছু আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো হামলা চালানো হলে এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক পালটা হামলা চালানো হবে। এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসনে যেসব আঞ্চলিক দেশ সহায়তা করবে, তাদেরও এ সংঘাতের পক্ষ হিসাবে গণ্য করা হবে।
