Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

কাল থেকে কপ-৩১ সম্মেলন শুরু

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

Icon

আলমগীর মিয়া

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

আগামীকাল থেকে ১১ দিনব্যাপী তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন, কপ-থার্টিওয়ান। এবারের সম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য হলো, নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা। কপ-৩১-এর দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর খুব সংক্ষিপ্ত। দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি সম্মেলনস্থলে ১০০ বর্গমিটারের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে বাংলাদেশ সরকার।

সম্মেলনে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি, জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। এ প্যাভিলিয়নকে অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতি সংলাপ এবং উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা হবে। সম্মেলনে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বৃদ্ধি, ঋণের বোঝা না বাড়ানো ও জলবায়ু তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে কপ-৩১-এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র (পজিশন পেপার) তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ ও চীন এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগও সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি। এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তা-ও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের (সিজেএ-বি) যৌথ উদ্যোগে ‘৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ : আর্টিকুলেটিং সিএসওস পজিশনস টুগেদার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে নীতিনির্ধারক, জলবায়ু আলোচক, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্র উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে উঠে আসা প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত জলবায়ু অঙ্গীকারের (এনডিসি) তৃতীয় চক্রকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বির সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারিতে থাকা জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান নগণ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়। কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিণতি ভোগ করতে হয়। আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে দেশটি। তিনি বলেন, আগামী কপ-৩১-এ শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঢাকা-কুয়াকাটা সড়ক কম দূরত্বে বেশি টোল

কম দূরত্বে বেশি টোল

গারো পাহাড়ে এবার মানুষ আতঙ্কে হাতি!

গারো পাহাড়ে এবার মানুষ আতঙ্কে হাতি!

কাল থেকে কপ-৩১ সম্মেলন শুরু অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল টং দোকান থেকে শত কোটি টাকার মালিক!

টং দোকান থেকে শত কোটি টাকার মালিক!

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম