Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

হুথির সঙ্গে লড়াই তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাল সৌদি

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

Advertisement

যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান যে সাত কর্মপরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ইরান তার বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করবে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।’ 

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি গ্রাফিক বা ছবি পোস্ট করেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসাবে দেখানো হয়। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে দেন। গত জুনের পর এটা ছিল প্রথম দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন ট্রাম্প। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরক শেষ হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে হঠাৎই ইরানে হামলা স্থগিত করে মার্কিন প্রশাসন। 

সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া ও সাত দিনের মধ্যে অঞ্চলে সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব ছিল।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান তার দাবিগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। তিনি তার কর্মীদের বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে বোমা হামলার অভিযান শুরু হতে পারে। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ ছিল।

ইরান এই প্রণালির বিষয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। সাত মাস চলা এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই এই আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। 

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে : পেজেশকিয়ান

পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে বলেন, ‘অঞ্চলের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ দুটি ‘মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করে’ ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং কূটনীতির মাধ্যমেই হরমুজ সংকটের সমাধান সম্ভব।

হুথির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকিয়েছে সৌদি জোট 

রয়টার্স জানায়, ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার ভোরে জানিয়েছে, তারা ইরান সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। জোটটি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খামিস মুশাইত শহরের দিকে এবং ড্রোনগুলো রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসছিল। সৌদি সিভিল ডিফেন্স আগের রাতে খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি করে, কিন্তু রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করেনি।

ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাইয়ে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই সৌদি আরবের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের ওপর চালানো হামলাও অন্তর্ভুক্ত। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং নৌচলাচল ব্যবস্থা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত এক বৈঠকে সৌদি আরব এবং এর প্রতিরক্ষা মিত্রদেশ পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক প্রধানরা দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত হুমকিগুলো পর্যালোচনা করেন। গত মাসে এ তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম