চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
ভোটের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা
এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন কখন হবে, তার কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি। চলতি বছরে হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তবে আগামী বছরকে টার্গেট করে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিতর্কিত করতে নানা ইস্যুতে তার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে জামায়াত ও এনসিপি। যদিও বিএনপি ও এনসিপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আগেভাগেই মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী না থাকায় মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই চসিক নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, চসিক নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের মতো কাজ করছেন। কবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিও আলোচনা হয়নি।
সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে আবারও মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিকের ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে লড়েছিলেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ওই নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে সে সময় তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। আদালতের রায়ে একই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে তিনি চসিক মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ পরিষদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু করে জামায়াত-এনসিপি। সবশেষ ৬ সেপ্টেম্বর লালদিঘি মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর আগে ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল এনসিপি। ওই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন বলেছিলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন। আমরা চাই, তিনি জনগণের রায়ে মেয়র হোন।
তবে যখনই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখনই শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন।
ডা. শাহাদাত ছাড়াও চসিক নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসাবে রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চসিকের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের নাম শোনা যাচ্ছে। এনসিপিও মনজুর আলমকে তাদের দল থেকে মনোনয়ন দিতে চাইছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন বলেন, সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যারা চসিকের মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী, তাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংগঠনের বাইরে থেকেও কাউকে পাওয়া যায় কি না, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সংগঠন বিশেষ করে এমন কাউকে চাচ্ছে, যিনি মহানগরীর ভোটার বা মহানগরীতে তার জন্ম। এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসাবে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন কাজ করছেন। এছাড়া আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও জিয়া রনি নামে একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে কাউকে এখনো গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
সূত্র আরও জানায়, ২০ এপ্রিল রাতে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চসিক মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসাবে শামসুজ্জামান হেলালীর নাম ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এই ঘোষণা দেন। শামসুজ্জামান হেলালী নগর জামায়াতের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি এর আগে চসিকের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের কাছে তিনি হেরে যান।
এদিকে বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে কবে থেকে নির্বাচন শুরু হবে বা শেষ হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসিকেই নিতে হবে।
