কুমিল্লা সিটি নির্বাচন
সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনলাইনে ভোটের আমেজ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা। দলীয় সমর্থন পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ক্রীড়ানুষ্ঠানে সক্রিয় হচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে কেউ কেউ গণজমায়েত ও জনসংযোগ চালাতে শুরু করেছেন। নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরগরম হয়ে উঠেছে। এতে নগরীতে নির্বাচনের আমেজ তৈরি হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, কুসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দল গোছানোর কাজ করছেন। মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন চাইতে পারেন। এদিকে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিগত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কার হন।
এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থী হিসাবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। এর আগেই এনসিপির কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি তিনি নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা বলেন, দল ও দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসাবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। সাবেক মেয়র মনিরুল হক বলেন, দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে মোতাবেক এগিয়ে যাব।
মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, দলে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। দল যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনিই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আপাতত আমরা সবাই মিলে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছি।
এনসিপির প্রার্থী তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সেবা করার জন্য আমি সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। মাঠে গণসংযোগ করে বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সেতুবন্ধন তৈরি করছি। দল থেকে আমাকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি জোটের সমর্থনও পাব। এর আগে ২০১১ সালের ১০ জুলাই পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় কুমিল্লা। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী মনিরুল ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালেও মনিরুল নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে এক হাজারের কম ভোটে হারেন মনিরুল। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৯ ভোট। আরফারের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ উপনির্বাচনে জেতেন আওয়ামী লীগের তাহসিন বাহার সূচনা। মূলত ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলের সুযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। এখনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে এ নির্বাচন শুরু হতে পারে।

