বিশ্ব প্রাণী দিবস আজ
একটি প্রাণী কমে গেলে প্রভাব পুরো পরিবেশে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব প্রাণী দিবস আজ। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য-‘See the World Through Their Eyes’, অর্থাৎ ‘তাদের চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখুন’। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে প্রাণীদের অধিকার নিশ্চিতে প্রতিবছর ৪ অক্টোবর দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ন্যাচার ওয়াচ ফাউন্ডেশন। এছাড়া দেশে দেশে প্রাণী কল্যাণমূলক সংস্থা দিবসটি পালন করে। প্রতিবারের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মামুন হাসানের ভাষ্য, প্রকৃতিতে কোনো প্রাণীই অপ্রয়োজনীয় নয়। ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ থেকে হাতি-সবাই কোনো না কোনোভাবে খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। একটি প্রজাতি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রাণী কমে যায় না; এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো পরিবেশব্যবস্থায়। তিনি আরও বলেন, প্রজাতির সংখ্যা থাকলেই তাদের নিরাপদ বলা যায় না। আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, দূষণ, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-জলাভূমির পরিবর্তন এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত-সব মিলিয়ে অনেক প্রজাতির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বন্যপ্রাণীর বর্তমান অবস্থা ও ঝুঁকি আরও নির্ভুলভাবে নিরূপণে রেড লিস্ট হালনাগাদের কাজ চলছে জানিয়ে মামুন হাসান বলেন, ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশ-এর মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
‘আপডেটিং ফনাল রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রেড লিস্ট হালনাগাদ এবং সামুদ্রিক গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীসহ নতুন প্রজাতি অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। প্রায় ২ হাজার ২০০ প্রজাতির সংরক্ষণ অবস্থা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ শুধু তালিকা তৈরির কাজ নয়; কোন প্রজাতি কতটা ঝুঁকিতে, কোথায় তার আবাসস্থল, কী ধরনের হুমকি রয়েছে এবং কোন প্রজাতিকে আগে সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া দরকার-এসব সিদ্ধান্তে হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে ১২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬৯০ প্রজাতির পাখি, ১৫৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৫৩ প্রজাতির উভচর রয়েছে। স্তন্যপায়ীদের মধ্যে ৫টি ও সরীসৃপের মধ্যে ১৯টি সামুদ্রিক প্রজাতি। পাখির ৩৮০টি আবাসিক, ২০৯টি শীতকালীন পরিযায়ী, ১১টি গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী এবং ৮৮টি ভ্রাম্যমাণ। ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ জার্মানির বার্লিনে প্রথমবার এই দিবস পালিত হয়। জার্মান লেখক ও প্রাণী রক্ষাকর্মী হেইনরিখ জিমারম্যান ছিলেন এর অন্যতম উদ্যোক্তা। পরে ১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
