ময়মনসিংহে দুর্ঘটনার নেপথ্যে
বেপরোয়া গতি ও আঁকাবাঁকা পথ
দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএ, সওজসহ অন্য বিভাগের তদারকি প্রয়োজন-জেলা ট্রাফিক বিভাগ পরিদর্শক * নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; তবে সবাইকে সচেতন হতে হবে-বিআরটিএ’র পরিদর্শক
Advertisement
অমিত রায়, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর বাইপাস একটি ব্যস্ত সড়ক। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ বাইপাস মোড় থেকে রহমতপুর বাইপাস দিয়ে জামালপুর, টাঙ্গাইল, ফুলবাড়িয়াসহ উত্তরবঙ্গের সব গাড়ি চলাচল করে। আঞ্চলিক এই সড়কে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না চালকরা। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নেই কোনো তদারকি, চালকদের নেই প্রশিক্ষণ। এদের বেশির ভাগ নেশাগ্রস্ত, বখাটে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা কেউ কেউ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। এই সড়কটির বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আঁকাবাঁকা। একদিকে বাস-ট্রাক ও সিএনজিচালিত যানের বেপরোয়া গতি; অন্যদিকে আঁকাবাঁকা পথ-এই দুই কারণে সড়কটিতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। শুক্রবার ঘটা দুর্ঘটনায় ঝরে যায় মা-ছেলেসহ একই পরিবারের চার সদস্যসহ সাতজনের প্রাণ।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ জানতে নগরীর রহমতপুর বাইপাস এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী ও সখিনা বেগমসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, সড়কটিতে মোটরসাইকেল, বাস-অটোরিকশার বেপরোয়া রাজত্ব। তিন-চারটি স্থানে আঁকাবাঁকা রাস্তার কারণে রহমতপুর বাইপাসের পূর্ব গন্দ্রপার এই বাঁকে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। শুক্রবার যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য বাস ও অটোরিকশার দুই চালকই দায়ী। দুটি যানবাহনেরই গতি ছিল বেপরোয়া। গতি বেশি থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশার কেউ বেঁচে নেই। ঠিক একইভাবে গত এক মাসে এই সড়কে ঘটে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা। তবে অনিয়ন্ত্রিত গতির এই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ’র কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে যোগাযোগা করা হলে জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মওলা জানান, জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা নানাভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনবল সংকট, ডাম্পিং স্টেশন না থাকাসহ নানা কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলেই নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া তিন চাকার যান বন্ধে শুধু ট্রাফিক বিভাগ নয়, বিআরটিএ, সওজসহ আরও অন্যান্য বিভাগের তদারকি প্রয়োজন। ম্যানেজমেন্ট ঠিক করতে হবে। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং এসব জাতীয় সড়ক-মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে তিন চাকার যানবাহন বন্ধে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ নাগরিকদের ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হওয়ার কথা বলেন।
বিআরটিএ’র পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছাড়া বাকি তিন চাকার যানগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নেই। আমরা প্রায়ই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালাই। ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণ নেই, পাশাপাশি চালকও সচেতন নন। তিনি বলেন, আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; তবে চালক ও চলাচলকারী সবাইকে সচেতন হতে হবে।
