বারহাট্টায় কাজ বন্ধের নির্দেশ
সেতুর ঢালাইয়ে মরিচাধরা রড কাদাযুক্ত পাথর
Advertisement
বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজে নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঢালাইয়ে জমাটবাঁধা সিমেন্ট, কাদাযুক্ত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু ও মরিচাধরা রড ব্যবহার করায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার গোড়ল এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবির ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রুবেল মিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের অগ্রগতির তুলনায় আগাম বিলও তুলে নিয়েছে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে সেতুর ওপর ঢালাইয়ের প্রস্তুতি হিসাবে সেন্টারিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। পরে রডসহ সেই সেন্টারিং ভেঙে পড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। রোববার সেতুর ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলে কাদাযুক্ত পাথর, ময়লাযুক্ত বালু ও জমাটবাঁধা সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বিকালে ঘটনাস্থলে যান বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ। এ সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ও কাজের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোড়ল গ্রামের বাসিন্দা সুহেল মিয়া বলেন, এই সেতুতে সবচেয়ে বাজে কাজ হয়েছে। মরিচাধরা রডের ওপরও ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আরেক বাসিন্দা আনিস তালুকদার বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে এই সেতু। কাজ চলাকালে উপজেলার কাউকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখিনি। পুরো কাজই দুই নম্বর হয়েছে। কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে উপজেলা থেকে একজন তদারকিতে থাকার কথা থাকলেও তার উপস্থিতি ও কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা এক আনসার সদস্যকে ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হবে।
সেতুর নির্মাণকাজের সিংহভাগ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। সম্পন্ন হওয়া কাজও যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
