Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

Advertisement

হুমায়ুন কবির

হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

Advertisement

শিক্ষার্থীদের শিখন, আচরণগত ও মানসিক বিকাশ, জাতিগঠন-সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন শিক্ষক। অথচ নানা কারণে দেশে মানসম্মত ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঠদানের অদক্ষতা, পেশাগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, যৌন হয়রানি ও রাজনীতিতে শিক্ষকদের জড়িয়ে পড়াসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মহান শিক্ষকতা পেশা অনেকটাই মর্যাদা সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শিক্ষকদের পাশে : পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তা, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষকদের মান, পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, আচরণ ও দায়িত্বশীলতার জায়গায় আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এখনো দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখস্থ ও পরীক্ষাভিত্তিক পাঠদানের প্রবণতা বেশি। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ কমছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা, মানসিক চাপ ও শেখার প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতেও অনেক শিক্ষক সক্ষম হচ্ছেন না। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফল, মানসিক বিকাশ এবং ঝরে পড়ার ওপর। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে হলে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। নিয়োগের আগে ও পরে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ পেশাগত জীবন নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নেহ, সম্মান ও দায়িত্বশীলতার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাও জরুরি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুন্নাহার যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকদের নিয়োগের পর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে। নিয়মিত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম চালু করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের যৌক্তিক বেতন বাড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে মাধ্যমিকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের পর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম, মনিটরিং ও জবাবদিহি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হিট প্রকল্পের আওতায় ইউজিসির আগামী দুই বছরে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।

১০১ গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন সম্মাননা : জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এবার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ১০১ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয়ভাবে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০১ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৪০ জন এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬১ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আরও উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দেন। তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকের মর্যাদা, পেশাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেন বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশের শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ৬০ বছরের পথচলা : ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। এবার সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ৬০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে শিক্ষকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘সক্রেটিসের জবানবন্দী’। নাট্যদল দৃশ্যপট আয়োজিত এ নাটকে সক্রেটিসের জীবন, দর্শন এবং সত্য ও যুক্তির অনুসন্ধান তুলে ধরা হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

গলাচিপায় ম্যানগ্রোভ প্রকল্প এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

আপন ভাইদের নৃশংসতা চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম