Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

Advertisement

নূরে আলম জিকু

নূরে আলম জিকু

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

Advertisement

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখতে চায় না বিএনপি। বিশেষ করে পূজামণ্ডপে হামলা, নাশকতা বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেবে না দলটি। এ কারণে আসন্ন দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি। এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ের বার্তা দেওয়া হবে। কোথাও সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশনাও থাকবে। দলীয় সূত্র জানায়, দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো মহল যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখবে বিএনপি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং পুরোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ করে পলাতক স্বৈরাচারী চক্র বা অশুভ শক্তি যেন দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের দলের সবস্তরের নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করব।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারা দিয়েছেন। এবারও তারা একই ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ বাংলাদেশ সব ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানের দেশ। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস বহু বছর আগের। তবে এখানে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। ধর্মীয় ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। তাই যারা রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করবে তাদের প্রতিহত করতে বিভিন্ন স্থানে আমরা পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজায় আমাদের নেতাকর্মীরা সবাই সর্তক থাকবেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসর বা অন্য কাউকেই অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা বা কোনো সমস্যা আছে কিনা তা দেখতে ইতোমধ্যে আমাদের সবপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে। দুর্গোৎসব যাতে সার্বিকভাবে, নির্বিঘ্নে, সুন্দর ও সর্বজনীনভাবে উদযাপিত হতে পারে সেজন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় আমাদের নেতাকর্মীরা থাকবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গুজবের বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করা হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, দুর্গাপূজার মতো বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সামান্য কোনো ঘটনাও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা নিয়ে বিএনপির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা ও গোপন তৎপরতার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পর দুর্গাপূজার সময় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে-ডিসেম্বর সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এ বিষয়ে দলীয় নেতাদের বক্তব্য হলো-কোনো ধরনের উসকানি বা অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, পূজার আগে বিএনপির কেন্দ থেকে জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হবে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন বিএনপির নেতারা। পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন তারা। বিশেষ করে রাতে মণ্ডপের আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাচল, গুজব ছড়ানো বা কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হবে। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনোভাবে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশনা থাকবে। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দায়িত্ব হবে-সতর্ক থাকা, তথ্য দেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখা।

এবারের দুর্গাপূজাকে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত জানাতে ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার মূল আয়োজন ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

গলাচিপায় ম্যানগ্রোভ প্রকল্প এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

আপন ভাইদের নৃশংসতা চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম