বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির অপেক্ষায় ইইউ: মাইকেল মিলার
Advertisement
কূটনীতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উত্তরণের পরও পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুপক্ষের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এমনটাই জানিয়েছেন। রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসাবে দেখে না ইইউ। দুপক্ষের মধ্যে আরও বড় পরিসরে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুপক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না-সেটা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউ’র অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ দ্রুত এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে দেশটি। এফটিএ সফল করতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুপক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন কনফারেন্সের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ। রোববার ছিল আয়োজনের দ্বিতীয় দিন।
