এলডিসি উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে: ব্রিটিশ হাইকমিশনার
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরও তিন বছর এ সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপর ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকও রয়েছে।
রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ যেন মসৃণ ও টেকসই হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্য কাজ করছে। বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে দুদেশের অংশীদারত্ব মূলত উন্নয়ন সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে দুদেশের সম্পর্ক আরও আধুনিক কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।
দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে এই সম্পর্কের অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যে পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন। এর মাধ্যমে দুদেশের সমাজ, অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে সারাহ কুক বলেন, মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে দুদেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্বকেও স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত নিরাপত্তাহীনতার মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐতিহ্যগত সীমারেখার বাইরে গিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বড় উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতার পাশে রয়েছে যুক্তরাজ্য। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
