বারিধারায় গাড়িচাপা দেওয়া কিশোরের জামিন হয়নি
‘প্রশ্রয় দিলে বিত্তবান ও শিশুরা বিচারকে সহজ ভাববে’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহতের ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে বিচারক বলেন, ‘এখন জামিন পেলে সমাজে কী মেসেজ (বার্তা) যাবে? এমন অপরাধ করে, এমন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়েও বের হওয়া যাবে-এমন বার্তা যাবে। সমাজের কাছে এটি খারাপ মেসেজ যাবে। এই ঘটনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়ে যাবে। আইন-বিচারকে বিত্তবানরা ও শিশুরা সহজ ভাববে।’ আদালত আরও বলেন, ‘তার একটু ম্যাচিউরিটি আসুক। সমাজের কাছে একটা মেসেজ যাক যে, এমন অপরাধ করলে সহজেই বের হওয়া যায় না। এটি শিশুর মঙ্গলের জন্যই। সব সমাজ ও শিশুদের মাঝে এই মেসেজ যাওয়া দরকার যে, এত তাড়াতাড়ি বের হওয়া যায় না।’
এদিন দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে জামিন শুনানি শুরু হয়। কিশোরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি আদালতকে বলেন, ঘটনার দিন চালক কৌশলে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যান। ওই শিশু নির্দোষ। তাকে জামিন দেওয়া উচিত।
আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলায় আপনার জাজমেন্ট হচ্ছে তিন লাখ বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। কিন্তু আমরা এটি আগেই ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়ে এসেছি। বাদীপক্ষ আদালতে এসেছে। তাদের আপত্তি নেই।’ এ সময় বেঞ্চে বসে থাকা নিহতের বাবা ও ভাই সামনে গিয়ে দাঁড়ান। ১৭ বছর বয়সি কিশোরের আইনজীবী আরও বলেন, সে শিশু। সে জামিনের হকদার। তখন আদালত জানতে চান, সে কতদিন ধরে হাজতে আছে। জবাবে আইনজীবী বলেন, আজ ১২ দিন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন আদালতকে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। ওই কিশোরের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাই জামিনে আপত্তি রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী তখন দাবি করেন, ‘ড্রাইভিং সিটে ওই শিশু ছিল না’।
আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, ‘ড্রাইভার কে ছিলেন? সিসিটিভি দেখেছেন?’ জবাবে আইনজীবী বলেন, বাদী মামলায় ওই কিশোরের বিষয়ে কিছু লিখেননি। ড্রাইভারই ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। পরে তিনি অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে যান। তখন বিচারক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে এটি দেখা গেছে যে, তিনি ওই দিক থেকে বের হচ্ছেন।’ এরপর আদালত বলেন, ‘এখন জামিন পেলে এই মেসেজটা যাবে যে, এমন অপরাধ করে, এমন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়েও বের হওয়া যাবে।’ পরে আসামিপক্ষ আবারও জামিনের আবেদন করলে আদালত বলেন, ‘তার একটু ম্যাচিউরিটি আসুক।’ পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই দিন তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য হয়। পরে শুনানি শেষে রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বারিধারার ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হন। তার বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসাবে আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনকে আসামি করা হয়। তবে তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন। এদিকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কিশোরের পরিবারের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে বলে জানা গেছে।
