সাংবাদিকদের ওপর হামলা
রাবি ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার ৬ জনকে শোকজ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো ও রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার ও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে দুটি পৃথক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। আরেক বিজ্ঞপ্তিতে সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজুকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না-তা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি, দিনভর অবস্থান প্রতিবাদ : সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। সোমবার হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। এর আগে বিকাল ৪টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। তবে তাতে কোনো ফল হয়নি। সর্বশেষ রাত ৯টার সময়ও অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, ছাত্রত্ব বাতিল ও অর্জিত সনদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ পরিবেশের ওপর মারাত্মক আঘাত।’ অধ্যাপক আল মামুন বলেন, ‘জুলাইয়ের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা আমরা আশা করিনি। সাংবাদিকরা জনগণের চোখ ও কান হিসাবে কাজ করেন। হামলাকারীদের শাস্তি চাই।’
রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি-ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও ব্যাট-বলসহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল।
চোখে কালো কাপড় বেঁধে ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ : রাবির সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা ঘটনায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মরত সাংবাদিকরা। সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মৌন অবস্থান কর্মসূচি করেন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন; সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সাংবাদিক মারধরে জড়িতদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা।
আসকের উদ্বেগ : রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
