Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে নিম্নমুখী রেমিট্যান্স

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে নিম্নমুখী রেমিট্যান্স

Advertisement

দেশের সার্বিক অর্থনীতির বেশির ভাগ সূচকই নিম্নমুখী। হাতে গোনা দু-একটি সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ এতদিন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকলেও গত দুই প্রান্তিকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের বা পয়েন্ট টু পয়েন্টের তুলনায় প্রবৃদ্ধির ধারায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ধারায় প্রবৃদ্ধি বেশ কমেছে। গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে রেমিট্যান্স কমেছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেমিট্যান্স কমেছে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অভিবাসন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় থাকার প্রত্যাশা করা হলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে তা কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এই খাতটি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। অবশ্য রেমিট্যান্সের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। বিপুল সংখ্যক অভিবাসন যোগ্য কর্মী থাকার পরও বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী দেশগুলোর মধ্যেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে আগামীতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার মন্থর হতে পারে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব কতটা গভীর হবে তা নির্ভর করছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়িত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর। সংঘাত স্বল্প স্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সীমিত হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক সংকট রেমিট্যান্স প্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৯৯৪ কোটি ডলার। যা আগের বছরের অক্টোবর ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে রেমিট্যান্স আসে ৯৩৮ কোটি ডলার। যা আগের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৬০ কোটি ডলার। যা আগের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

দেখা যাচ্ছে, রেমিট্যান্স কমার কারণে জিডিপিতে এর অবদান হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির দায় মেটানোর ক্ষেত্রেও এর অবদান কমেছে। গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সাধারণ ডিজিপিতে ভূমিকা রেখেছিল ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত এপ্রিল জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশে। দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণে আমদানি হয় তা দায় রপ্তানি আয় দিয়ে মেটানো সম্ভব হয় না। মোট রপ্তানি আয় দিয়ে ৬০ শতাংশ আমদানি ব্যয় মেটানো যায়। বাকি ৪০ শতাংশ টোনো হয় রেমিট্যান্স থেকে। রেমিট্যান্সের বাকি অংশ অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধে ব্যয় ও রিজার্ভে যোগ হয়। গত জানুয়ারি মার্চ প্রান্তিকে যে পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছিল তা দিয়ে আমদানি ব্যয়ের ৫২ দশমিক ৪০ শতাংশ মেটানোর সক্ষমতা ছিল। গত এপ্রিল জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জুলাই সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তা আরও কমেছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষার ‘৩২৯ স্বপ্ন’ থমকে দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

দক্ষতার প্রদীপেই নিভুনিভু আলো

রংপুর টাউন হল সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

সার্ধশতবর্ষী স্মারক ধুঁকছে অবহেলায়

শিশু একাডেমিতে আজ আসছেন প্রধানমন্ত্রী বাইরে আলোকোজ্জ্বল ভেতরে অন্ধকার

বাইরে আলোকোজ্জ্বল ভেতরে অন্ধকার

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি বাণিজ্যে ‘গুডবাই’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম