ঢাকায় হত্যার পর ডিমলায় মাটিচাপা
এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়
Advertisement
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব নামে এক যুবককে হত্যার পর লাশ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিজ গ্রাম ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়ায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এরপর ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রাকিব জীবিত আছে. এমন ভিডিও তৈরি করে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।
পরিবারের দাবি, রাকিবকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলেও তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেনি মামুন। পরে বিষয়টি নিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পুলিশ ওই সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্তে নামে। একপর্যায়ে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে মামুনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তাকে ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার দেখানো পথে রাকিবের লাশ মাটিচাপা দেওয়ার স্থান শনাক্ত করা হয়। নিহত রাকিবুল হোসেন জয় (১৮) টাঙ্গাইলের গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জয়। নিখোঁজের পর অপরিচিত এক যুবক জয়ের নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে জয়ের চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠায় এবং ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জয়কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ছেলেকে বাঁচানোর আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ধারদেনা ও সুদে টাকা নিয়ে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। এরপর নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জয়ের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জয়ের পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রায় এক মাস আগে জয় ও মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জেরে জয়কে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গুমের উদ্দেশ্যে মামুন জয়ের লাশ ডিমলায় তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে লাশ মাটিচাপা দিয়ে সে ঢাকায় ফিরে। এরপর জয়ের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে সে।
