সিইসির পদত্যাগ দাবি
ব্যাপক বিক্ষোভ কংগ্রেসের, হেনস্তা প্রিয়াংকাকে
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে আন্দোলন চলাকালে বুধবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধীকে আটকে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা -এএফপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা দ্বিতীয় দিন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দল। এ অবস্থায় বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে যাওয়ার সময় কংগ্রেস নেতাকর্মীদের ওপর ধড়পাকড় চালায় পুলিশ। আটক করা হয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধীকেও। পরে প্রিয়াংকা পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাকে মাটিতে ফেলে খামচে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বুধবার যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এর আগে রাস্তায় শুয়ে পুলিশি বাধার প্রতিবাদ জানান তিনি। এ সময় দিল্লি পুলিশ তাকে শারীরিক হেনস্তা করেছে বলে জানান প্রিয়াংকা। তিনি বলেন, তাকে আটক করতে আসা নারী পুলিশ সদস্যরা জোর করে মাটিতে আছড়ে ফেলেন। এমনকি তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খামচি দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াংকা জানান, তিনি সেখান থেকে এক ইঞ্চিও নড়বেন না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সরকার কী ধরনের আচরণ করছে, তা পুরো ভারত দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশি আচরণের সমালোচনা করে অবিলম্বে বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান প্রিয়াংকা।
এর আগে মঙ্গলবার আকাশবাণী ভবনের বাইরে প্রায় ৯ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী জোটের নেতারা। বুধবারও সেই আন্দোলন অব্যাহত থাকে। দুপুরে জনপথে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের আয়োজিত ঐক্যের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর বিরোধী সংসদ-সদস্যরা একজোট হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে রওয়ানা হন। বিরোধী সংসদ-সদস্যদের একাংশ বাসে যাত্রা শুরু করেন। পথে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা বাসের ছাদে উঠে জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, দীপেন্দর সিং হুডা, ইমরান প্রতাপগড়ী, ইমরান মাসুদ এবং সেবা দলপ্রধান বি ভি শ্রীনিবাস।
মিছিল প্রায় এক কিলোমিটার এগোনোর পর অশোকা রোডে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করে বাস আটকে দেওয়া হয়। তৈরি করা হয় একাধিক স্তরের নিরাপত্তাবলয়। এর ফলে উইন্ডসর সার্কেল এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। এ কর্মসূচিতে কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তবে সমাজবাদী পার্টির সংসদ-সদস্যদের মিছিলে দেখা যায়নি।
ভোট চুরি এবং বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে হবে। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। দিল্লির রাজপথে পুলিশের সঙ্গে বিরোধী নেতাদের এ সংঘাত ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমেই বাড়ছে।
রাহুলকে আটক নিয়ে অভিজিৎ দীপকের তীব্র কটাক্ষ
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকাসহ বিরোধী দলের নেতাদের আটকের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে একনায়কতান্ত্রিক শাসক বলে অভিহিত করেন। মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিলের চেষ্টা করেন বিরোধী দলের নেতারা। তখন দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক এবং রাত ১০টার কিছু পরে মুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপকে লিখেন, ছাত্রদের আটক করা হয়েছে, সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে, এবার বিরোধী দলনেতাকেও আটক করা হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, একনায়ক শাসক সত্যিই অন্য সবকিছুর চেয়ে জ্ঞানুকে (জ্ঞানেশ) বেশি ভালোবাসেন। অভিজিৎ দীপকে মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
