ঢাকার বাস রুট র্যাশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দুমাসে ১০০০ খেলার মাঠ নির্মাণ চান সরকারপ্রধান * আবরারের বাবার আহ্বানে সেতু নির্মাণের আশ্বাস
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা -পিএমও
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্রুত ঢাকার বাস রুট র্যাশনালাইজেশন (সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা) বাস্তবায়নেরও নির্দেশ নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, ঢাকায় গণপরিবহণের বিশৃঙ্খল অবস্থা ও যানজট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে এবং সড়কে কার্যকর শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যেই এ সভা হয়। বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং রাজধানীর গণপরিবহণের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ডিটিসিএ-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বলা হয়েছে, ঢাকায় গণপরিবহণের ৯৮টি রুট রয়েছে। সেখানে বিশৃঙ্খলভাবে পরিবহণ চলাচল করছে, এতে নগরীতে যানজট হচ্ছে। মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গবেষণার মাধ্যমে ৩২টি রুট চূড়ান্ত করেছে ডিটিসিএ। এসব রুটে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে বাস পরিচালনা করলে ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরবে। যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান বলেন, ডিটিসিএ নির্ধারিত ৩২টি রুটের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ হাতিরঝিলের আদলে ২৫টি চক্রাকার বাস রুট নির্ধারণ করেছে। গবেষণার মাধ্যমে এর যৌক্তিকতা পাওয়া গেছে। উভয় রুট থেকে ৫টি করে রুটে গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরানোর কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহণ ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ : বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, চুক্তির আওতায় কনটেইনার টার্মিনাল ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে এ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপন এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান। এ সময় প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ : দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে তিন এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসাবে ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবরার ফাহাদের পরিবারের সাক্ষাৎ : বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।
