চট্টগ্রামে প্রথম
ক্রমান্বয়ে আরও সাইকেল ট্র্যাক হবে : অর্থমন্ত্রী
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কে শুক্রবার দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কে এই সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তেব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ হবে, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি এনামুল হক এনাম।
চসিক সূত্র জানায়, নগরীর পতেঙ্গা এলাকার বিমানবন্দর সড়কে নির্মিত এই ট্র্যাকের উদ্দেশ্য-সাইকেল চালকদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরি করা; একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহিত করা এবং নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ানো। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন প্রল্পের আওতায় ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, সড়কটির দৈর্র্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর সঙ্গে রয়েছে ফুটপাত, সড়কের মাঝখানে বিভাজক এবং সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ-সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র বলেন, দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ নগরীর জন্য একটি গর্বের। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুপাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে : এদিন বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নগরীর টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ-সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ বক্তব্য দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পারে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
