শীতের সবজি মন জুড়ায় দামে হতাশ ক্রেতা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে। শিম, ফুলকপি ও মুলাসহ নানা সবজি ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখেন বিক্রেতারা। রঙিন এসব সবজি দেখে ক্রেতার মন জুড়ালেও আকাশছোঁয়া দামে কিনছেন খুব কম মানুষই। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। অন্যদিকে মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই চড়া। তবে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। শুক্রবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ছুটির দিন শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হয় আকারভেদে ১৫০-১৮০ টাকায়। প্রতিপিস ফুলকপি কিনতে ক্রেতার ৬০-৭৫ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতিকেজি মুলার দাম ঠেকেছে ৭০-৮০ টাকায়। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং প্রতিকেজি টমেটো আকারভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি, ঝিঙে ও করলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়। প্রতিপিস লাউ কিনতে ক্রেতার ৪০-৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে। আর কচুরমুখি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বাজারে প্রতিকেজি হাইব্রিড শসা ৫০-৬০ টাকা ও দেশি শসা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারের সবজি কিনতে আসা মো. সালেহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বাজারে এসে সবজি দেখে মন জুড়িয়ে গেছে। বিক্রেতারা ঝুড়ি ভরে শীতের সবজি বিক্রি করছেন। মন চাইছে সব কিনে বাসায় নিয়ে যাই। কিন্তু দাম অনেক বেশি। স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই।
একই বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আমিন বলেন, সবজির সরবরাহ আছে। শীতের আগাম সবজিও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছে। কিন্তু মাঠ ও ব্যাপারী পর্যায় থেকে দাম অনেক বেশি। পাইকাররাও বেশি দামে বিক্রি করছেন। আমাদেরও বেশি দামে আনতে হয়, তাই বেশি দামেই বিক্র করতে হচ্ছে। তবে এই উচ্চমূল্য আর কয়েকদিন থাকবে। কারণ সপ্তাহ পর এই সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন ক্রেতারা কম দামে কিনতে পারবেন।
শুক্রবার খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের দামেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কমেছে ডিমের দাম। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১৫০ টাকা ছিল।
এছাড়া মাছের বাজারেরও একই চিত্র। নতুন করে দাম না বাড়লেও গত সপ্তাহের মতোই প্রতিকেজি তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি প্রতিকেজি ১০০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই কেজিপ্রতি ৪৫০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইম ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা কেজিদরে। মাঝারি আকারের রুই কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ৩০০-৩৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।
