Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

সেতু না থাকায় ভোগান্তি চরমে

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলযাত্রা

Advertisement

Icon

আলাউদ্দীন শাহরিয়ার, বান্দরবান

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলযাত্রা

বান্দরবানের লামায় সেতু না থাকায় বমু খালের পানি ডিঙিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। স্রোত বেড়ে গেলে জীবনের ঝুঁকি থাকেই। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা দীর্ঘদিন সেতু নির্মাণের দাবি করলেও নজর নেই প্রশাসনের -যুগান্তর

Advertisement

বান্দরবানের লামায় সেতু না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বমু খাল পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয়শ’র বেশি ছাত্র-ছাত্রী কাঁধে স্কুল ব্যাগ, কেউবা হাতে বই-খাতা নিয়ে পাড় হয় এই খাল। ছোট্ট শিশুরা মা-বাবার কোলে চড়ে পাড় হয়। এ সময় অনেক শিশুর জামা-কাপড় ভিজে যায়। পা পিছলে পড়ে যায় অনেক শিশু। শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকলেও বর্ষাকালে খাল ভরে যায়। অসুস্থ রোগীদেরও খাল পেরিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা জানান, খালটিতে সেতু না থাকায় লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বমু খালের দুপাড়ে বাইশফারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিত্তাবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বড়থলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তিনটি স্কুলের ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করছে। বমু খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তারা বলেন, বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। পানির উচ্চতা ও স্রোত বেড়ে গেলে অনেক সময় পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে খালে স্রোত বেড়ে গেলে সন্তানদের নিরাপদে চলাচল নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। অনেক সময় ঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

চিত্তাবান ও বাইশফারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পাউঙি ম্রো ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাংইয়ং ম্রো বলে, প্রতিদিন এই খাল দিয়ে পাড় হয়ে স্কুলের আসতে হয় আমাদের। কারও বই ভিজে যায়, কারও ড্রেস ভিজে যায়। পানি বেশি থাকলে পারাপার করতে ভয় লাগে। তখন কেউ স্কুলে আসতে পারে না। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। যোগাযোগব্যবস্থার এই সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিতেও। কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের সমস্যার কারণে সময়মতো পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শুধু শিক্ষা ও কৃষি নয়, সেতুর অভাবে স্বাস্থ্যসেবাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে অনেক সময় বিলম্ব হয়। বর্ষায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

নয়াপাড়া ও মুরুং পাড়ার বাসিন্দা উচহ্লা ও সিংপাক ম্রো বলেন, আমাদের অনেকেই জুম ও কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। কোনো ব্রিজ না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসতে চান না।

লামা গজালিয়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের চিত্তাবান পাড়া, পশ্চিম বাইশফারি, নয়াপাড়া, তুলাতলী মুরুং, মারমা পাড়া, ঢেঁকিছড়া, হেডম্যান পাড়াসহ সাতটি গ্রামে রয়েছেন ১০ হাজার মানুষ। সেখানে বেশির ভাগ ম্রো, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাস। যাদের অধিকাংশ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সংকট দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। দুটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কৃষিপণ্যের নায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। সেতু নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আসবে।

সরেজমিন দেখা যায়, বান্দরবান-লামা সড়কের মাঝখান দিয়ে গেছে এলাকাটি। বাইশফারি ও চিত্তাবান পাড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ১৮০ ফুট প্রশস্ত বমু খাল।

বাইশফারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বমু খালের ওপর সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। খালের পানি বেড়ে গেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ে।

বাইশফারির এনজিও কর্মী অংথোয়াইনু মারমা বলেন, ব্রিজ হবে হবে বলে বহুবার লোক এসে মাপজোখ করে গেছে। ফিতা টেনে দাগ দিয়ে চলে যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উচাছিং মারমা বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ কম থাকায় প্রকল্প হাতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী রনি সাহা বলেন, সেতুটি এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ৭৯ খাতে দুর্নীতি ১২১ কোটি টাকা

৭৯ খাতে দুর্নীতি ১২১ কোটি টাকা

শীতের সবজি মন জুড়ায় দামে হতাশ ক্রেতা

শীতের সবজি মন জুড়ায় দামে হতাশ ক্রেতা

কুমিল্লায় ধানখেতে কিশোরীর লাশ কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে, আর কিছু বলব না

কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে, আর কিছু বলব না

পাবিপ্রবিতে আবারও র‌্যাগিং অসুস্থ দুই নারী শিক্ষার্থীর একজন হাসপাতালে

অসুস্থ দুই নারী শিক্ষার্থীর একজন হাসপাতালে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম