চট্টগ্রামে সাইলো পরিদর্শন
মন্ত্রীর পরিদর্শনের দিনই সরকারি গম পাচার
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের একটি খাদ্যগুদাম (সাইলো) যখন খাদ্যমন্ত্রী পরিদর্শন করছিলেন, ঠিক তখন ওই গুদাম থেকে সরকারি গম পাচার হচ্ছিল! নির্দিষ্ট গন্তব্যের পরিবর্তে গমবাহী দুটি ট্রাক বেসরকারি মালিকানাধীন একটি গুদামে প্রবেশের সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হয়। পরে খাদ্য অধিদপ্তরের লোকজন ও পুলিশ ট্রাক দুটি জব্দ করে। এরপর বেসরকারি গুদামটিতে শত শত বস্তা সরকারি গমের সন্ধান মেলে।
এ নিয়ে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগে তোলপাড় চলছে। শনিবার সকালে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অবস্থিত কিষোয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের গুদামে ঢোকার সময় দুটি ট্রাক আটক করা হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ৪০১ বস্তা সরকারি গম জব্দ করে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ ও এসআরবি। এছাড়া অবৈধভাবে সরকারি গম গুদামজাত করার দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে ভোরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সাইলো (সরকারি খাদ্যগুদাম) থেকে গম নিয়ে দুটি ট্রাক বের হয়। ট্রাক দুটির খাগড়াছড়ি যাওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ মিনার এলাকার কিষোয়ান গ্রুপের কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাক দুটি আটক করে স্থানীয় লোকজন খাদ্য অধিদপ্তরসহ প্রশাসনকে খবর দেয়। চট্টগ্রাম সাইলোর কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান যুগান্তরকে জানান, ট্রাকগুলো সাইলো থেকে গম নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে বের হয়েছিল। কী কারণে বায়েজিদ এলাকায় বেসরকারি গুদামে আনলোড হলো-সেটি তার জানা নেই।
দুপুরে কিষোয়ান গ্রুপের গুদামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শত শত বস্তা সরকারি গম মজুত রাখা হয়েছে। এক পাশে লোকজন সরকারি বস্তা পালটিয়ে সাদা (বেসরকারি) বস্তায় গম ভরছে। এক শ্রমিক যুগান্তরকে বলেন, মিলটিতে তিন হাজার বস্তার মতো সরকারি গম মজুত রয়েছে।
কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পার্টি থেকে গম কিনে নেয়। এ গম বেকারিজাত পণ্যের কাজে ব্যবহার করা হয়। কিষোয়ান গ্রুপের কর্মকর্তা লিটন জানান, নুরুল আলম চৌধুরীর (মেসার্স এন আলম ট্রেডার্স) কাছ থেকে তাদের কোম্পানি সরকারি গমগুলো কিনেছে। কিষোয়ানের মালিক সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি এমএ মোতালেব বলে জানা গেছে।
বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় জব্দ গমভর্তি দুটি ট্রাকের বিষয়ে নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ট্রাকগুলো আমি পাঠিয়েছি খাগড়াছড়ি থেকে। দুটি ট্রাকই খাগড়াছড়ির। সেগুলো চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সাইলো থেকে পাঠানো হয়নি। ভুল তথ্যে ট্রাক দুটি আটক করা হয়েছে। এসব গম সরকারি নয়। তবে আটক ট্রাক দুটি সাইলো থেকে বের হওয়ার ভিডিও ফুটেজ থাকার কথা বললে তিনি আর কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিন পার্বত্য জেলার জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য নুরুল আলম চৌধুরী একাই কিনে নেন। এরপর তিনি তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।
এদিকে, শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরের সাইলো জেটি ও সাইলো পরিদর্শনের পর ব্রিফিংকালে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য মজুতের পাশাপাশি সুষ্ঠু সংরক্ষণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। আসন্ন রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অপচয় রোধ এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা, গুদামভিত্তিক মজুত এবং সরবরাহ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে সময়ক্ষেপণ, পরিবহণ ব্যয় ও খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, খাদ্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। দেওয়ানহাট সিএসডি পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন তিনি।
