কাজ করেনি সতর্কবার্তা সৌদিতে নতুন হামলা
পুরো সপ্তাহ বন্ধ থাকছে রিয়াদ বিমানবন্দর
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত শনিবার সংঘটিত সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহতম হামলার আগে সতর্কতাসংকেত কাজ করেনি। ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটেছিল-তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন তিন শতাধিক। এ অবস্থায় রিয়াদে বিমানবন্দরে চতুর্থ দফা হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি দেশটিতে হুথির সঙ্গে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। মঙ্গলবার তারা রাজধানী সানার একাংশ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরার নির্দেশনা দিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ বিমানবন্দরে চার দফা হামলার আগে জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি। সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার পেছনে কী কারণ ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা এর একটি কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারঘনিষ্ঠ সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবি বলেন, আগাম সতর্কবার্তা থাকুক বা না থাকুক, সৌদি আরবের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন। দেশটির আয়তন অনেক বড়। তিনি বলেন, সৌদি আরবে রক্ষা করার মতো স্থাপনার সংখ্যা অনেক। রয়েছে বিমানবন্দর, তেলের পাইপলাইন ও জ্বালানি স্থাপনা। একই সময়ে সব স্থানে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার মতো ব্যবস্থা নেই। সব লক্ষ্যবস্তু রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিও নেই।
টানা তৃতীয় দিনেও অব্যাহত হামলা
টানা তৃতীয় দিনেও সৌদিতে অব্যাহত ছিল হুথিদের হামলা। রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট। সোমবার রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এরপর মঙ্গলবার পালটা হামলা চালিয়েছে সৌদি। হুথিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের একটি ব্রেকিং নিউজে বলা হয়েছে-সানার পশ্চিমে আল সাবাহর একটি তেল কোম্পানি সৌদির হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে হুথিরা জানিয়েছিল, রিয়াদে তাদের লক্ষ্য ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটির দিকেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, হুথিরা রিয়াদের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তার দাবি, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে। হামলার কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলে অন্যতম বড় বিপর্যয় তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের পাশাপাশি উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বিমান পরিবহণ খাত। নতুন হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক বিমান চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার উড়োজাহাজগুলো রিয়াদের আকাশ এড়িয়ে চলছিল। তবে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমান পরিবহণকেন্দ জেদ্দায় উড়োজাহাজ অবতরণ করছিল। দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়েও কিছু উড়োজাহাজ চলাচল করেছে। বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে ফ্লাইট বাতিলের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
হামলা আতঙ্কে ‘বারবার প্রাসাদ বদলান সৌদি যুবরাজ’
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রাসাদে প্রাসাদে অবস্থান করছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এসব প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে বিশেষ বাংকারও রয়েছে। সোমবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৪১ বছর বয়সি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘এমবিএস’ নামেও পরিচিত। গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির অংশ হিসাবে রক্ত দেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার চলাফেরার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজকে নিজস্ব নিরাপত্তা দলের পাহারায় এক সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে নেওয়া হচ্ছে।
