কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সিলেটে নিরাপত্তারক্ষীকে পিটিয়ে ও মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন * রাজবাড়ীতে গুলি করে যুবককে হত্যা * নারায়ণগঞ্জে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজবাড়ী শহরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সিলেটে এক নিরাপত্তারক্ষীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাসা থেকে এক শ্রমিকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার পাঁচ জেলায় এসব হত্যাকাণ্ড ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ব্যুরো ও স্টাফ রিপোর্টারদের পাঠানো খবর-
কুমিল্লা : শুক্রবার দুপুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিলে যুবদল নেতা মো. আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। নিহত কাউছার (৩৮) নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি নগরীর ওই ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা শহরতলীর পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকার একটি জমি নিয়ে স্থানীয় তৌহিদুল ইসলামদের সঙ্গে কাউছারদের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার ওই জমি নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়। শুক্রবার ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন তৌহিদুলরা। সকালে এতে কাউছাররা বাধা দিলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় তৌহিদুলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন। এ সময় কাউছারকে মাথায় ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (২৮) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের স্বজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদ সংলগ্ন রাজনের দোকান এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার বুকে গুলির দুটি ক্ষত ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পান।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
মুন্সীগঞ্জ : নিহত মুন্না মৃধা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার ভোরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্নাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। শুক্রবার ভোরে তাকে বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি তছলিম উদ্দিন জানান, নিহত মুন্না মাদকাসক্ত ও মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদকদ্রব্য বেচাকেনার দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট : নিহত ইরফান আলী গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াগ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিলেট নগরীতে নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার নগরীর খাদিমপাড়ার ‘নুর প্যালেস’ নামের একটি নির্মাণাধীন বাসার চারতলা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা হাতুড়িসহ বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ভবনে কর্মরত ১৩ জন নির্মাণ শ্রমিককে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নারায়ণগঞ্জ : আড়াইহাজারে একটি ভাড়াঘর থেকে নাদিম আকন্দ নামের এক শ্রমিকের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার দুই হাত বাঁধা এবং গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। ঘরের বাইরে বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছাপও পাওয়া গেছে। শুক্রবার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দী গ্রামের একটি টিনের ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকাল থেকে নিখোঁজ হন নাদিম।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত নাদিমের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তর জাঙ্গালিয়া গ্রামে। ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজার নড়াইলের হাকিম মোল্লার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।
আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, এ বিষয়ে ভিকটিমের স্ত্রী খাদিজাকে আটক করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক হাকিম মোল্লা পলাতক রয়েছে।
