Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আসছে বিশেষ অধ্যাদেশ

সরকারি সম্পত্তিতে ব্যবসার সুযোগ

Advertisement

শাহেদ সিদ্দিকী

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি সম্পত্তিতে ব্যবসার সুযোগ

Advertisement

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য চলতি সপ্তাহের মন্ত্রিসভা কমিটিতে উঠছে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬। এই অধ্যাদেশ অনুমোদন হলে সরকারি বা আধা সরকারি ভবনের ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি বা জলাশয়ে যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সোলার প্যানেল বসিয়ে (ওপেক্স মডেলে) বিতরণ কোম্পানির কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। অর্থাৎ একটি কোম্পানি সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে বিনিয়োগ এবং সোলারের রক্ষণাবেক্ষণ করে বিদ্যুৎ বিক্রির ব্যবসা করতে পারবে। এছাড়া সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজের অর্থে সৌর বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপেক্স মডেলে (যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামে) বিনিয়োগ করে অর্থ আয় করতে পারবে। পুরো বিষয়গুলো দেখভাল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন করা হবে। এর বাইরে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার সভাপতিত্বে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মন্ত্রিসভা কমিটিতে এই অধ্যাদেশ অনুমোদন হতে পারে। এর আগে গত ১১ অক্টোবর অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিষয় সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এটির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় শনিবার আবারও পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই অধ্যাদেশ বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন সরকারি বা আধা সরকারি ভবনের ছাদ বা খালি জায়গায় বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো নীতিমালা নেই। অধ্যাদেশটি অনুমোদন হলে সরকারি কয়েক হাজার ভবনে বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে। সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগে লোডশেডিং কমাতে ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। যার বেশিরভাগ আসবে সরকারি ছাদ থেকে। কিন্তু এই ছাদে কোন পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসবে তা নিয়ে নানা যুক্তিতর্ক হয়েছে। কারণ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ ও ইনভেস্টমেন্ট আইন ২০২৬, কোনোটিতে সরকারি সম্পত্তিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে ব্যবসার সুযোগ রাখা হয়নি। তাই এই অধ্যাদেশ করতে হচ্ছে। অধ্যাদেশে ২২টি অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে।

খসড়া বিশেষ সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুযায়ী, যে কোনো প্রতিষ্ঠান সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌর সেচ পাম্প, সৌর বিদ্যুৎ চালিত কোল্ড স্টোরেজ, ইজিবাইক; চা বাগানের ছাদ ও সংলগ্ন পতিত জমি, ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ, কৃষি সৌর বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। তবে সরকারি ছাদ বা সম্পত্তি ব্যবহার, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা বিতরণ কোম্পানির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করতে হবে। সরকারি ছাদ বা সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য একটি ফি দিতে হবে বিনিয়োগকারী ওই প্রতিষ্ঠানকে। এ ক্ষেত্রে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিকে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ বা যন্ত্রপাতি চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ, ক্ষতিসাধন, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই অপরাধ একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করবেন।

অধ্যাদেশের খসড়ায় ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরল বিশ্বাসে কৃত কাজের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কর্মকর্তা বা কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা দায়ের বা গ্রহণ করতে পারবে না।

গত ২ মাস আগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে-সরকারি, বেসরকারি, আবাসিক এবং শিল্পকারখানার ভবনে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করা যাবে। সব সরকারি, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর এবং সংস্থার ছাদে সোলার প্যানেল বসানো যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ভবনে বেসরকারি বিনিয়োগকারীকে উৎসাহিত করা হবে। নেট মিটারিংয়ের (উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে চাহিদা মতো ব্যবহার করতে পারবে গ্রাহক) মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি এবং গণপূর্ত বিভাগ বিভিন্ন ভবনের ছাদের ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা সোলারের জন্য বরাদ্দ রাখবে। এ জন্য নির্মাণাধীন এবং নির্মিতব্য সব ভবন, সেতু এবং উপযোগী কাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সোলার প্যানেল বসানো বাধ্যতামূলক করবে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো ‘জাতীয় রুফটপ সোলার গাইডলাইন’ অনুযায়ী ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

সৌর বিদ্যুতের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ : ভূমিতে চার হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ বসানো হবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে। ছাদের চেয়ে ভূমিতে সৌর বিদ্যুৎ টেকসই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে জমির সীমাবদ্ধতা। কৌশলপত্র এবং বর্তমান আইন অনুযায়ী কৃষি জমি ব্যবহার করে কোনোভাবেই সোলার প্যানেল বসানো যাবে না। এমনকি হাওড়-বিলসহ দেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে কোনো সোলার প্যানেল বসানো যাবে না। এখন থেকে উন্মুক্ত দরপত্র, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট (এক জায়গায় বসিয়ে আরেক জায়গায় ব্যবহার) এবং পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ) পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা যাবে। পিডিবি সেই বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। তবে কী পদ্ধতিতে সেই বিদ্যুৎ কিনবে তার বিস্তারিত কোনো ব্যখ্যা দেওয়া হয়নি। এ জন্য বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য নির্ধারণের আগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের নিশ্চিত বিনিয়োগের অনুমোদনপত্র (লেটার অব সাপোর্ট) সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিয়ে আসতে হবে।

কৌশলপত্রে বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন পরিত্যক্ত জমিতে সোলার প্যানেল বসানো যাবে। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের প্রতিষ্ঠান পিপিপি সেই জমির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। তারপর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওই জমি বরাদ্দ নিতে হবে। জমির উপযোগিতা বিবেচনা করে সেখানে ব্যাটারিভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে চা বাগান এবং হাওড়ের আইন মেনে সেখানে সোলার প্যানেল বসানো যাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে আসছে বিশেষ অধ্যাদেশ সরকারি সম্পত্তিতে ব্যবসার সুযোগ

সরকারি সম্পত্তিতে ব্যবসার সুযোগ

কারুপণ্য পেল ‘রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ রংপুর থেকে বিশ্বজয়

কর্মক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ রংপুর থেকে বিশ্বজয়

ব্যাংককে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর বিষয়ে প্রস্তাবনা সহজ শর্তে ঋণের ওপর গুরুত্ব আইএমএফের

সহজ শর্তে ঋণের ওপর গুরুত্ব আইএমএফের

জুলাই যোদ্ধা বানিয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা

জুলাই যোদ্ধা বানিয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম